ফতুল্লায় অফিসে ঢুকে যুবককে মারধর, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে টাকা-মোবাইল নেওয়ার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

Date: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
news-banner
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অফিসে ঢুকে এক যুবককে মারধর, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. বশার (২২)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বশার পটুয়াখালী জেলার তিতকাটা এলাকার শাহ্ নুর আলমের ছেলে। তিনি ফতুল্লার ভোলাইল এলাকায় কামাল হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন এবং টিমওয়ার্ক লজিস্টিক লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

অভিযোগে বশার উল্লেখ করেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি অফিসের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি দরজায় ধাক্কা দিলে তিনি দরজা খুলে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে এক নারী অনুমতি ছাড়াই অফিসের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে অন্যরাও সেখানে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

বশারের দাবি, একপর্যায়ে তার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে ওই নারীর সঙ্গে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার কথা স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়। তিনি এতে রাজি না হলে তাকে পুনরায় মারধর করা হয়। পরে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক তাদের শেখানো কথাবার্তা বলিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং ওই নারীর সঙ্গে তাকে বসিয়ে ছবি তোলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা বশারের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। এ সময় তার মোবাইল ফোনে থাকা বিকাশ অ্যাকাউন্টের ৩৯০ টাকা গলায় ছুরি ঠেকিয়ে নিজ বিকাশ অ্যাকাউন্টে নেওয়া হয়। 

এ ছাড়া অভিযুক্তরা তার মানিব্যাগ ও ড্রয়ার থেকে নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় বাসার সামনের সড়কে ‘মিঠুন’ নামের এক ব্যক্তি এসে কিছু টাকার বিনিময়ে অভিযুক্তদের কাছ থেকে তার মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে দেন।

পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি তার মানিব্যাগ ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি কার্ড নিয়ে এসে বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ সময় মিঠুন একটি চিরকুটে একটি বিকাশ নম্বর লিখে দেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সঙ্গে মিলে তার ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগপত্রটি হাতে পেয়েছি। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

Leave Your Comments