গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরি করে গণপিটুনি, নিহত ২ চোর

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

Date: রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
news-banner
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরি করে পালানোর সময় দুই ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তরপানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকার বড় সেচ খালের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার রেজাউল ওরফে কানা (৪২) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাদিকুল ইসলাম (৩২)। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, তাঁরা একটি অটোরিকশা চুরি করে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।

চুরি হওয়া অটোরিকশাটির মালিক সিদ্দিকুর রহমান সোহেল। তিনি বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মতিন মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার ভোরে সোহেলের বাড়ির সামনের মসজিদে মুসল্লিরা ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় সোহেল চিৎকার করে জানান, তাঁর অটোরিকশাটি চুরি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর চিৎকার শুনে কয়েকজন মুসল্লি নামাজ ছেড়ে চোর সন্দেহে ওই দুই ব্যক্তির পিছু নেন।

তাঁদের আটক করতে না পেরে মসজিদের মাইকে অটোরিকশা চুরির ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন দিক থেকে তাঁদের ধাওয়া করেন।

স্থানীয় লোকজনের দাবি, ধাওয়া খেয়ে ওই দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অটোরিকশাটি রেখে ধানখেতের মধ্য দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে প্রায় এক কিলোমিটার দৌড়ে পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন চারদিক থেকে তাঁদের ঘিরে ফেলেন। এ সময় গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

অটোরিকশার মালিক সিদ্দিকুর রহমান সোহেল জানান, বাথরুমের মেঝে ঢালাইয়ের জন্য আগের রাতে দুই বস্তা সিমেন্ট এনেছিলেন। সেগুলো অটোরিকশায় রাখা ছিল। ভোর চারটার দিকে উঠে অটোরিকশাটি চার্জে দিতে যান। এরপর আবার ঘুমিয়ে পড়েন।

সোহেল বলেন, কিছুক্ষণ পর তাঁর ছোট মেয়ে কান্না করে উঠলে তিনি তাকে বুকে নিয়ে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন। এ সময় চোর সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা অটোরিকশা রাখার ঘরের তালা কেটে ভেতরে ঢোকেন। প্রথমে তাঁর ঘরের দরজায় দুবার আঘাত করলে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন। তবে মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে ওঠার কথা ভাবছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এর দুই মিনিট পর তাঁর স্ত্রী জানান, অটোরিকশা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন তিনি বিছানা থেকে উঠে বারান্দা দিয়ে বের হয়ে অটোরিকশাটি ধরে রাখার চেষ্টা করেন। এ সময় ওই ব্যক্তিরা তাঁকে নিয়েই অটোরিকশা টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি অটোরিকশা ছেড়ে চিৎকার শুরু করেন।

সোহেলের ভাষ্য, তাঁর চিৎকার শুনে মসজিদের লোকজন বের হয়ে তাঁকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। এতে তাঁর হাঁটুর চামড়া উঠে যায়। পরে মসজিদের মাইকে অটোরিকশা নিয়ে উত্তর দিকে পালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে তাঁদের আটকানোর আহ্বান জানানো হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে খালের কাছে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটির সুরতহাল সম্পন্ন করে থানায় নিয়ে যায়।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে মরদেহ দুটির সুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

Leave Your Comments