সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে সুন্দরবনের কটকা এবং কচিখালী অভয়ারণ্য এলাকায় পর্যটকদের ঢল নেমেছে। বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার পর্যন্ত কটকা ও কচিখালী ঘুরে গেছেন প্রায় ৩ হাজার পর্যটক। সুন্দরবনের মায়াবী চিত্রল হরিণ কাছ থেকে দেখা, বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ পর্যবেক্ষণ করা এবং বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনকে একসাথে অনুভব করতে পর্যটকদের পছন্দের অন্যতম স্থান কটকা ও কচিখালী অভয়ারণ্য। পূজোর টানা ছুটিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থানগুলো।
সুন্দরবন পুর্ব বন বিভাগের পর্যটন স্পট কটকা অভয়ারণ্য এলাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান ইমরান মুঠোফোনে জানান, গত বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবারে তিন হাজারের অধিক পর্যটক কটকা অফিস পাড় এবং জামতলা সী-বিচ ঘুরে দেখেছেন। কটকায় চিত্রল হরিণ, বানর, শুকর, মদনটাক পাখিসহ বন্যপ্রাণী কাছ থেকে দেখে পর্যটকরা আনন্দিত হচ্ছেন বলে তিনি জানান।
ট্যুর অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস) এর সহ-সভাপতি মোঃ মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, আগের যে কোন সময়ের তুলনায় অধিক সংখ্যক পর্যটক এখন সুন্দরবনে যাচ্ছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দূর্গা পূজার ছুটির সাথে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটকেরা সুন্দরবন মুখী হয়েছেন। ২০ অক্টোবর থেকে তিন দিন সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য টোয়াসের ৭০ টি জাহাজে পর্যটকরা আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করীম চৌধুরী জানান, টানা তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকার পরে ১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন খুলে দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবন এখন নতুন করে সেজেছে। সুন্দরবনে হরিণ, বাঘসহ বণ্য প্রাণী বেড়েছে। পর্যটকেরা আসা যাওয়া করছেন। পর্যটকরা নৌযানে বসে মাঝে মধ্যে বাঘকে খাল সাতরে পার হতে দেখছেন। দর্গা পুজার ছুটিতে ব্যপক সংখ্যক পর্যটক সুন্দরবনে যাচ্ছেন বলে ডিএফও জানিয়েছেন।