গঙ্গাচড়ায় আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দি প্রায ৫ হাজর পরিবার,তিস্তার পানিতে বিপদ সীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপরে

গঙ্গাচড়া রংপুর প্রতিনিধি:

Date: সোমবার, অক্টোবর ০৬, ২০২৫
news-banner
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় আকস্মিক বন্যায় তিস্তাপাড়ের প্রায় ৫ হাজর পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তার উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অব্যাহত বর্ষণের ফলে নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে কোলকোন্দ, আলমবিদিতর, নোহালী, গঙ্গাচড়া সদর, লক্ষীটারী ও মর্নেয়া ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পানিবদ্ধ এলাকায় বাগডোগরা, মিনারবাজার, আনন্দবাজার, বিনবিনা, চর মটুকপুর, চিলাখাল, বাগেরহাট, চর শংকরদহ, কাশিয়াবাড়ী, ইচলি ও চর ছালাপাকসহ হাজারের অধিক ঘর,বাড়ি, মসজিদ,মন্দির,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তা তলিয়ে গেছে। কৃষকের আমন,ধান ক্ষেত, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলও পানিতে ডুবে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, রোববার (৫ অক্টোবর) বিকেল থেকেই তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাত ১১টার দিকে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। যদিও পানি নামতে শুরু করেছে, তবুও নদীর তীরে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

চর শংকরদহের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, রাতারাতি পানি বেড়ে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। এখন পানি নামছে, কিন্তু ভাঙনের কারণে আমরা জানি না কাল সকালে বাড়ি থাকবে কি না।

অমিছা বেগম বলেন, আমরা তিনদিন ধরে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছি। সন্তান ও গরু,অনেক কষ্টে আছি। এখনও আমরা সরকারি,বে- সরকাীর কোন প্রকার ত্রাণ পাইনি।

কোলকোন্দের কৃষক সালাম উদ্দিন বলেন, আমনের ক্ষেত দেড় একর ছিল। সব পানিতে তলিয়ে গেছে। গরু খাওয়ানোর ঘাসও নেই।

উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করীম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং তাদের সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ হেক্টর আমন ধান, ১ হেক্টর মাসকলাই, ২ হেক্টর বীজবাদাম এবং ০.৫ হেক্টর সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন সক্রিয় ভাবে কাজ করছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের শতভাগ সহায়তা উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ধরনের চাউল বিতরণ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 
এ ব্যাপারে ইউ পি চেয়ারম্যান (প্যানেল) শরিফুল ইসলাম বলেন হঠাৎ করে তিস্তার পানি আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক বাড়ি ঘর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাস্তাঘাট ডুবে গেছে তাদের ত্রাণ দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে বলা হয়েছে তিনি আমাদের মাধ্যমে জরুরী ত্রাণ চাল বিতরণে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন

স্থানীয়রা দ্রুত ত্রাণ এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave Your Comments