সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফুয়েল কার্ড প্রাপ্তিতে চালকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও উৎফুল্লতা দেখা গেছে তবে তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে। ফিলিং স্টেশন থেকে পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহে ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক করায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে কার্ড সংগ্রহে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ৩১ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল সোমবার সকাল পর্যন্ত ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যত্রম চলমান থাকবে। সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় কার্ড বিতরণ করা হবে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালকেরা জাতীয় পরিচয়পত্র, রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্যাক্স টোকেন ও ফিটনেসসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে কার্ডের জন্য আবেদন করছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কার্ড প্রদান করছেন। তবে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই দীর্ঘ লাইনে তপ্ত রোদ দাঁড়িয়ে কার্ড সংগ্রহে বাইকাররা বিরক্তবোধ করছে। তার সাথে তাঁরা কার্ড প্রাপ্তিতে আইন সহজ করণের দাবি জানান। ইউএনও মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকৃত যানবাহন মালিক ও চালকদের যাচাই করে কার্ড দেওয়া হচ্ছে। মাস্টার এন্ড সন্সের ব্যবস্থাপক সুমন সাহা জানান,
আগে চাহিদার তুলনায় এখন২৫ থেকে ৩০ শতাংশ তেল কম পাচ্ছি। সেই তুলনায় তেল সরবরাহ করতে হচ্ছে। ট্রাক ড্রাইভার ইসমাইল হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে ভৈরব যেতে কয়েক পাম্পে থামতে হয় কারণ কোন পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী তেল দিচ্ছে না। এনজিও কর্মী মোঃ সেলিম উদ্দিন ফুয়েল কার্ড পেয়েও তেল না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়গঞ্জ উপজেলায় মাত্র ছয়টি পেট্রোল পাম্প থাকলেও বরাদ্দকৃত জ্বালানির তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। এ কারণে এলাকায় পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই মূলত ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিলার ঘুড়কা সমবায় ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আব্দুল গাফফার জানান, মাসিক চাহিদার ভিত্তিতে প্রায় ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও সমপরিমাণ অকটেন পাই। আগে যা এক মাসে বিক্রি হতো, এখন তা মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। পাম্পে দ্বায়িত্বরত রায়গঞ্জ থানার এ এস আই মামুন জানান, বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও কার্ডধারীদের তেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছি।