রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মারামারি ইউনিয়ন সভাপতিসহ তিনজন আহত ও দলীয় কার্যালয় ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে ভিন্ন চিত্র।
গত ২১ অক্টোবর রাতে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ও আফিজ, আকিব ও নিবিড় বিড়ির সত্ত্বাধিকারী মীর কাশেম মিঠুর সাথে হারাগাছ পৌর এলাকার ফ্রেশ বিড়ির সত্ত্বাধিকারী রমজান আলী জিকুর সাথে ব্যবসায়ী মতবিরোধ দীর্ঘদিনের
সেই পুরোনো দ্বন্দ্বের জেরে গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যার আগে গজঘণ্টা বাজার এরশাদ মার্কেটের সামনে মীর কাশেম মিঠুর বিশেষ আস্থাভাজন গজঘণ্টা ইউনিয়নের সাবেক ইউ,পি সদস্য এবং সাবেক ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া তার লোকজনসহ ফ্রেশ বিড়ির সত্ত্বাধিকারী রমজান আলী জিকু ও তার লোকজনের ওপর হামলা করে। বাজারের লোকজন এসে উভয় পক্ষকে শান্ত করে।
জিকুর ওপর আকর্ষিক হামলাকে ঘিরে এলাকায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়লে জিকু ও তার লোকজন মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মীর কাশেম মিঠুর উপর হামলার উদ্দেশ্যে কামদেব শেখ পাড়া বিএনপি কার্যালয়ে তার ওপর হামলা করে। এতে অফিসের চেয়ার ভাংচুর এবং মীর কাশেম মিঠুসহ চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কার্যালয়ে থাকা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ছবি ভাংচুরের অভিযোগ রমজান আলী জিকুর বিরুদ্ধে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও কথোপকথন ইতোমধ্যে ছবি ভাংচুরের বিষয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে। সেই ভিডিওতে জনৈক ব্যক্তিকে শান্ত পরিবেশে বলতে শোনা যায়, জিয়ার ছবি ভাঙি দেও ,খালেদার ছবি ছিড়ি দেও । তারেক জিয়ার ছবি ভাঙি দেও।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিও এবং প্রত্যক্ষ দর্শীদের অনেকের বক্তব্যে ইতোমধ্যেই প্রতিপক্ষকে ওপর দলীয় কার্যালয় ও ছবি ভাংচুর ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, মীর কাশেম মিঠু কী প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করিয়ে নিজের বিড়ি ব্যবসার আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন নাকি সত্যি সত্যি রমজান আলী জিকু দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের প্রকৃত অপরাধী?
গজঘণ্টা এলাকার নজরুল ইসলাম বলেন, প্রথমে দুলাল মেম্বার তার লোকজনসহ গজঘণ্টা বাজারে জিকু ও তার লোকজনকে গজঘণ্টা বাজারে আটকিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। বাজারের লোকজন এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী বিএনপির একান্ন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্য বদিয়ার রহমানের বক্তব্যে ঘটনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গন্ডগোলের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। মীর কাশেম মিঠুর সাথে জিকুর মাদক নিয়ে দ্বন্দ্ব নয়, মূল দ্বন্দ্ব বিড়ি ব্যবসা নিয়ে। প্রথমে দুলাল মেম্বারসহ মিঠুর লোকজন জিকু ও তার লোকজনের ওপর গজঘণ্টা বাজারে হামলা করে পরে জিকু ও তার লোকজন এসে মিঠুর ওপর হামলা করে পার্টি অফিসের বাইরে । কিন্তু পরে মিঠুর লোকজন দিয়ে পার্টি অফিস ভাংচুর করে দায় চাপিয়ে দেয় জিকু ও তার লোকজনের ওপর।
গজঘণ্টা বাজারে হামলার বিষয়ে, সাবেক ইউপি সদস্য ও বর্তমান গজঘণ্টা ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে মীর কাসেম মিঠুর বলেন আমি ৩ জন লোকসহ পার্টি ফিসে ছিলাম হঠাৎ জিকু ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ এসে আমাকে মারতে শুরু করে এক পর্যায়ে আমার মাথা ফেটে যায়। তারা অফিসের চেয়ার টেবিল সহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ছবি ভাঙচুর করেন
এ ব্যাপারে রমজান আলী জিকু বলেন এর কাছে মিঠু ও তার লোকজন সহ আমার বিড়ির গাড়ি আটক করেছে আমি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যাই নিঠুর লোকজন আমাকে ও আমার লোকজনের ওপর হামলা করে আমি দলীয় কার্যালয়ে যাইনি তারা পরিকল্পিতভাবে পার্টি অফিস ভাঙচুর করে আমার ওপর মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে । তিনি আরো বলেন আমি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব, আমার জনপ্রিয়তা ভালো থাকায় মীর কাশেম মিঠু বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছেন। আপনারা জানেন ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পার্টি অফিস ভাঙচুরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ভিডিওর সূত্র ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করলে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের সঠিক প্রকৃত দোষী পেরিয়ার।
এ ব্যাপারে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সবুর বলেন মামলা হয়েছে তদন্ত চলছে দোষী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।