রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ১নং বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ফ্যাসিস্ট তকমাধারী সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জুলাই হত্যার আসামি, ১৬ বছরে বি এন পি ও জামায়াত নেতার মিথ্যা মামলার মূল বাদী ও সাক্ষী সহ বেতগাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন অপরাধের হোতা মোঃ মোহাইমিন ইসলাম মারুফকে পুনর্বহালের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা, ছাত্র-জনতা, সচেতন নাগরিকসহ বিভিন্ন মহল এ সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ ও জনমতের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও নাশকতার মামলায় মোহাইমিন ইসলাম মারুফের নাম আসামি হিসেবে উঠে আসে। মামলার পর তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। জামিনে মুক্তির পরও তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
তার অনুপস্থিতির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের সেবামূলক কার্যক্রম বাধা গ্রস্থ হলে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের নির্দেশে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ করে স্থানীয় সেবা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করেন।
কিন্তু সম্প্রতি প্রশাসনের এক সিদ্ধান্তে মোহাইমিন ইসলাম মারুফকে আবারও চেয়ারম্যান পদে বহাল করা হলে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন একজন নাশকতার মামলার আসামি, যিনি দীর্ঘদিন দায়িত্বে অনুপস্থিত ছিলেন, তাকে কীভাবে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধির পদে বসানো হলো?
এদিকে, তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জানা গেছে, তিনি আওয়ামী লীগের বেতগাড়ি ইউনিয়নের দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ৫ আগস্টের পরে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। রাজনৈতিক নেতাদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থান পরিবর্তনের এই প্রবণতা স্থানীয় রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং তারপর প্রতি বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে।
স্থানীয় ছাত্র-জনতার ভাষ্য, যারা আন্দোলনের সময় জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, তাদের আবার জনগণের প্রতিনিধি বানানো মানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বেইমানি করা। তারা আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় এবং অতীতের বিতর্কিত ভূমিকার পরও এমন পুনর্বহাল সিদ্ধান্ত প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বলেন বেতগাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কে পূর্ণ বহাল করা হয়েছে আমার কাছে তার অনুলিপি রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, বিধি-বিধান অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে কঠোর ও স্বচ্ছ অবস্থান গ্রহণ করা জরুরি।