আদালতে মামলা করায় বাদীর পরিবারকে মারধর ও কুপিয়ে জখম, আহত ৭

কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ

Date: শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬
news-banner
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে তিস্তা সেচ ক্যানেলের রাস্তার কাজের অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন করায় সোনাবাবু (২৪) নামে এক ব্যক্তিকে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এঘটনার পর বাদীসহ তার পরিবারের লোকজনকে মারধর করেছে আসামিরা।  

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ১১ টার দিকে সদর ইউনিয়নের বাজারের পান শুপারি হাটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলেন- সদর ইউনিয়নের মধ্যে রাজীব ডাঙ্গাপাড়া এলাকার মৃত ওসমান আলীর ছেলে দুলু মিয়া (৩২), মৃত আজিমুদ্দিনের ছেলে ফজলু মিয়া (৬০), নুর মোহাম্মদের ছেলে নুরনবী (৪০) ও মৃত আছিমুদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম ব্যাল (৫৫), চয়েন মাহমুদের ছেলে আশরাফুল ইসলাম(২২) ও এরশাদুল ইসলাম (৩৩), মৃত আনোয়ার ইসলামের ছেলে হাসান মিয়া (৪৫), মৃত জফদ্দি মাহমুদের ছেলে সামাদ মিয়া (৬৬) নজরুল ইসলামের ছেলে নুরুল ইসলাম (২৭), আছিম্মুদিনের ছেলে ফজলে মামুদ (৫৬), ইসলাম হোসেনের ছেলে সৈয়দ আলী ছুল্লু ও মৃত গেন্টি মামুদ কালা (২৬)। 

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদার ও আসামিরা জোশসাজসে নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার করে তিস্তা সেচ ক্যানেলের রাস্তার কাজ করছিলেন। গত মার্চ মাসের ১৭ তারিখে সেই কাজের অনিয়ম নিয়ে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। এতে কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় আসামিরা মামলার বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করে আসছিলেন। পরে ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পরে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গতকাল রাতে আসামিরাসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে এসে মামলার বাদীর ভাইয়ের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এসময়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান ৷ পরে তার পরিবারের লোকজন জানতে পেরে হাসপাতালে ছুটে আসেন। এসময়ে আসামিরা হাসপাতালে এসে তাদেরও মারধর করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাদীর পরিবারের লোকজনকে গুরুতর জখম করেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার কারণে চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। 

মামলার বাদী সোনা বাবু বলেন, আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলাম এজন্য আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা দোকান করে খাই স্থানীয়দের সঙ্গে অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেজন্য আমাদের বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয় পরে ভয়ে আদালতে মামলা দায়ের করি। কিন্তু মামলা দায়ের করার পরে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে গতকাল আমার ভাইয়ের দোকানে গিয়ে হামলা চালায় ভাঙচুর করে তাকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা আমার ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এসময়ে আসামিরা হাসপাতালে এসে আমার পরিবারের লোকজনের ওপর হামলা চালায় ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করেন৷   

ভুক্তভোগী বাদল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতে আমি দোকান করছিলাম এসময়ে আসামীরাসহ কয়েকজন এসে আমাকে মারধর শুরু করেন। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগে তারা আমার দোকানের সবকিছু ভেঙে দেয়। পরে আমাকে আশপাশের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে তারা হাসপাতালে এসে আমার স্ত্রী বাবাসহ সবাইকে মারধর করেন। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি ভয়ে কোথাও যেতে পারছিনা। আসামিরা হাসপাতালের বাহিরে দাঁড়িয়ে আছেন লাঠিসোঁটা নিয়ে আমরা বের হলেই মারধর করবে। 

বাদল ইসলামের স্ত্রী হিয়া আক্তার বলেন, গতকাল আমার স্বামীকে মারধর করার কথা শুনে হাসপাতালে ছুটে আসি। এসময়ে এখানে আসা মাত্রই আসামিরা আমাদের মারধর শুরু করেন। হাসপাতালে থাকাকালীন সময়ে আমাদের মারধর করা হয়। আমাকে মারধর করে শ্লীলতাহানি করেছেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাদের এমন করা হলো আমরা বিচার চাই। 

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য তৈয়ব আলী বলেন, এসময়ে অতর্কিত হামলা করা হয়। আমার পকেটে ৫০ হাজার টাকাসহ তিনটি মোবাইল ছিল সেগুলো সব ছিনিয়ে নিয়েছে। দোকানে হামলা করে সব জিনিসপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে এমন হেনস্তা মারধরের স্বীকার হলাম প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।

এবিষয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, মারামারি ঘটনা শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave Your Comments