বাবার স্বপ্ন ও সংসারের বোঝা কাঁধে ১৪ বছরের অপূর্বর লড়াই: পাশে দাঁড়ালো প্রশাসন

আসাদুজ্জামান টিটু,রংপুর:

Date: মঙ্গলবার, মে ১২, ২০২৬
news-banner
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ২নং কুর্শা ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর কামারপাড়া গ্রামের কিশোর অপূর্ব চন্দ্র রায়ের জীবনগল্পটি এখন আর কেবল এক সংগ্রামের আখ্যান নয়, বরং তা প্রশাসনের মানবিক তৎপরতার এক অনন্য উদাহরণ। যে বয়সে দুরন্তপনায় মেতে থাকার কথা, সেই ১৪ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয়েছে সপ্তম শ্রেণির এই মেধাবী শিক্ষার্থীকে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে পরিবারটির মানবেতর জীবনের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেনের নজরে আসে। এর পরেই সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় পরিবারটিকে কার্যালয়ে ডেকে পাঠান তিনি। ইউএনও ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারটির তাৎক্ষণিক সহায়তায় ৫ হাজার টাকার একটি চেক তুলে দেন। এছাড়া টেকসই সহায়তার অংশ হিসেবে মা শ্যামলী রানীকে দ্রুত বিধবা ভাতার আওতায় আনা এবং দুই সন্তানের সরকারি স্কুলে ভর্তি ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করার জন্য সমাজসেবা ও শিক্ষা অফিসকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ের পর চার মাস আগে মারা যান অপূর্বর বাবা সানু ভূষণ রায়। সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারটির আয়-রোজগারের একমাত্র সম্বল মুদির দোকানটিও বাবার মৃত্যুর পর বন্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় মা শ্যামলী রানী বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ শুরু করলেও তা দিয়ে তিন সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। অভাবের মধ্যেও সন্তানদের স্বপ্ন বিসর্জন দিতে রাজি নন মা শ্যামলী রানী। বড় ছেলে অপূর্ব ও ছোট মেয়ে নীলা রানী দুজনেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী। বাবার স্বপ্ন আর ছোট বোনের ভবিষ্যৎ রক্ষায় অপূর্ব স্থানীয়দের সহায়তায় পুনরায় চালু করে বাবার সেই মুদির দোকানটি। প্রতিদিন সকালে বোনকে নিয়ে স্কুলে যায় অপূর্ব, আর দুপুরে বাড়ি ফিরেই শুরু হয় তার জীবনযুদ্ধের অন্য এক অধ্যায়। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানে বসে বেচাকেনা করে সে। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে অপূর্ব জানায়, আগে খেলাধুলা করার সুযোগ থাকলেও এখন আর সময় পায় না, কারণ বাবার অবর্তমানে মা আর বোনকে আগলে রাখাই এখন তার মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের এই দ্রুত ও মানবিক হস্তক্ষেপে পরিবারটির অন্ধকার জীবনে এখন নতুন করে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে।

Leave Your Comments