শ্রীমঙ্গলে চা বাগানে নিয়ে গণধর্ষণের আসামি আরমান গ্রেফতার

অন্তর মিয়া। স্টাফ রিপোর্টারঃ

Date: শনিবার, মে ১৬, ২০২৬
news-banner
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা বাগানের একটি কলোনিতে নিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রধান আসামি আরমান মিয়াকে (২৪) ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯।  
বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১:০৫ ঘটিকায় শ্রীমঙ্গল থানাধীন পূর্বাশা বুরবুড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আরমান মিয়া শ্রীমঙ্গলের মুসলিমবাগ এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। এর আগে গত ১৩ মে এই মামলার ২ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করেছিল র‍্যাব।  
ঘটনার বিবরণ
র‍্যাব জানায়, ভিকটিম তরুণী শ্রীমঙ্গল থানার বৌলাশির কান্দিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত ১১ মে ২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভিকটিম ও তার খালাতো বোন শ্রীমঙ্গলের চৌমুহনী এলাকায় ভিকটিমের খালাতো বোনের বন্ধু আব্দুল কাদিরের সাথে দেখা করতে যান এবং সেখানে একটি হোটেলে নাস্তা করেন। নাস্তা শেষে আব্দুল কাদির তাদেরকে ভানুগাছ রোড বধ্যভূমিতে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেন।  
তারা বধ্যভূমির গেইটে অপেক্ষা করার সময় সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বিবাদী মোঃ সুহেল মিয়া একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে এসে তাদের শ্রীমঙ্গল চৌমুহনীতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে গাড়িতে তোলেন। কিন্তু তিনি তাদের চৌমুহনী না নিয়ে মণিপুরিপাড়া আদি নীলকণ্ঠ চা দোকানে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই আরমান মিয়া ও মোঃ তাওহীদ মিয়া অবস্থান করছিলেন।  
সেখানে বিবাদীরা ভয়ভীতি দেখালে ভিকটিমের খালাতো বোন তার বন্ধু আব্দুল কাদিরকে ফোন করে ডেকে আনেন। এরপর বিবাদীরা জোরপূর্বক আব্দুল কাদিরের সাথে ওই খালাতো বোনের বিয়ে দিতে চাইলে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভিকটিম, তার বোন ও আব্দুল কাদির অটোরিকশায় চড়ে চলে যেতে চাইলে বিবাদীরা ভিকটিমকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে রাখেন এবং বাকি দুজনকে তাড়িয়ে দেন।  
পরবর্তীতে আসামি আরমান মিয়া ও মোঃ তাওহীদ মিয়া ভিকটিমকে তাদের মোটরসাইকেলে তুলে একটি চা বাগানের ভেতরের কলোনির ঘরে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক পালাক্রমে গণধর্ষণ করেন। ধর্ষণ শেষে তারা পুনরায় মোটরসাইকেলে করে ভিকটিমকে শহরের একটি ব্রিজের ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যান।  
মামলা ও র‍্যাবের অভিযান
এই নৃশংস ঘটনায় ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর র‍্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।  
তারই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ১৪ মে দুপুরে র‍্যাব-৯, সিপিসি-২ (মৌলভীবাজার)-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল শ্রীমঙ্গলের পূর্বাশা বুরবুড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর পলাতক আসামি আরমান মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০২৫) এর ০৭/০৯ (০৩)/৩০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।  
র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের দমনে র‍্যাবের এই চলমান অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

Leave Your Comments