রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোলকোন্দ মাস্টারপাড়া গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে আনিছুর ইসলাম (৪০) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর একজন সমর্থক ছিলেন। গত ২০২২ ইং সালে ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে গণঅভ্যূত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনার পতনে গঙ্গাচড়া উপজেলা শাখা জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গণমিছিলের ডাক দেয়। বিএনপি পুরাতন সোনালী ব্যাংকের মোড় হতে গণমিছিল বের করলে পুলিশ বাঁধা দেয়। বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা পুলিশের বাঁধা দেয়। বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে গঙ্গাচড়া জিরো পয়েন্টে এগুতে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও কাদানি গ্যাস ছুড়তে থাকে। শুরু হয় পুলিশের সাথে বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রায় তিন শতাধিক নেতা-কর্মী পথচারী ও সাংবাদিক রাবার বুলেটের ছোড়া গুলিতে আহত হয়। সেখানে জিরো পয়েন্টে আনিছুর ইসলামের দুই চোখে রাবার বুলেটের ছড়া ঢুকে পড়ে। আহত অবস্থায় তাকে গঙ্গাচড়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় হয়। আনিছুর ইসলামের দুই চোখের অবনতি হলে ২০২৩ সালে রংপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শরীফ নেওয়াজ জোহার সহযোগিতায় আনিছুর ইসলামকে ঢাকা বাংলাদেশ আই হাসপাতালে চোখের চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়। চিকিৎসকরা বলছেন আনিছুর ইসলামের ডান চোখে ৪টি এবং বাম চোখে ২টি রাবার বুলেটের গুলি রয়েছে। পড়ে ডান চোখটি অপারেশন করা হলেও চোখটি আলোর মুখ দেখনি চোখটি অন্ধ হয়ে যায়। ২০২৩ সালে রংপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শরীফ নেওয়াজ জোহার সহযোগিতায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতরে জোহার মাধ্যমে আনিছুর ইসলাম ৩ হাজার টাকা ও ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড প্রদান করেন। তখন থেকেই আনিছুর ইসলাম প্রতি ঈদুল ফিতরে তারেক রহমানের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ও ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড পেয়ে আসছেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এবারের ঈদুল ফিতরে ৪ হাজার টাকাসহ ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড পেয়েছেন। আনিছুর ইসলাম জানান, আন্দোলনে চোখ হারিয়ে সে দিশেহারা। সংসারে এক স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে তৌফিক মিয়া এবারের এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। মেয়ে তিন্নি আক্তার নানার বাড়িতে থেকে দশম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। আর দুই ছেলে-মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। আনিছুর ইসলাম আরো জানান, ডান চোখ দিয়ে সে দেখতে পান না। বাম চোখ দিয়ে একটু দেখেন ঝাপসা। তার চোখের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩ লাখ টাকার প্রয়োজন। আনিছুর ইসলাম এর স্ত্রী নিলা আক্তার জানান, তার স্বামী দুই চোখ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সে গঙ্গাচড়া বাজারে একটি মুড়ি-চিড়া ব্যবসায়ীর দোকানে সহযোগিতা করেন। তিনি মাঝে মধ্যে কিছু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন এবং অন্যের সহযোগিতায় কষ্টে সংসার চলছে। গত ২০২২ সালের বিএনপি’র ডাকা গণআন্দোলনে পুলিশের সাথে বিএনপি, অঙ্গ সংগঠন, ছাত্র, পথচারী ও সাংবাদিক আহত হলেও পুলিশ বাদী হয়ে ২৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এতে আনিছুর ইসলামকে ৪নং আসামী করা হয়। প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি’র নেতা-কর্মী, অঙ্গ সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতা পেয়ে হয়তোবা চোখের চিকিৎসা করলে আনিছুর ইসলাম আবার চোখের দৃষ্টি ফিরে পাবে। তার মোবাইল, বিকাশ ও নগদ নম্বর নং- ০১৪০২১৩১৬০২।