বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার রংপুর জেলা যুবদলের দুই নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। দলটির তৃণমূলের অভিযোগ, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশীদ গালিবের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। একটি স্থানীয় ডিশ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় যুবদল এই দুই পরীক্ষিত নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে দাবি তাদের। স্থানীয় দলীয় সূত্র ও নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রংপুর মহানগরীর কামাল কাছনা এলাকার ডিশ ব্যবসাটি মূলত যুবদল নেতা তামজিদুর রশীদ গালিবের নিজস্ব মালিকানাধীন ছিল। বিগত সরকারের আমলে রংপুর মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর হারুন-অর-রশিদ (কানা হারুন) এবং তার ভাই জোরপূর্বক সেই ব্যবসা দখল করে নেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গালিব ও মনু তাদের পূর্বের ডিশ ব্যবসার ফিড সংযোগ ও মালিকানা ফেরত পাওয়ার জন্য বৈধ প্রক্রিয়া শুরু করেন। তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, মালিকানা ফেরত নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে সাধারণ কিছু কথোপকথনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাটছাঁট (এডিট) ও অপব্যাখ্যা করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তাদের দাবি, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী এবং দলের ভেতরের কিছু সুযোগসন্ধানী মহল এই দুই নেতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতেই এই ষড়যন্ত্রমূলক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আর এই অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের বহিষ্কার করে। বিক্ষুব্ধ যুবদল নেতারা জানান, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে অসংখ্য মিথ্যা মামলা, রিমান্ড ও দীর্ঘ কারাবাস সহ্য করা এই দুই নেতা মাঠের রাজপথ কাঁপানো মুখ। যারা দলের কঠিন সময়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন, তাদের এমন একটি অতিরঞ্জিত বিষয় নিয়ে দল থেকে সরিয়ে দিলে ত্যাগী কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে মনোবল হারিয়ে ফেলবেন। সার্বিক পরিস্থিতি, অতীত ত্যাগ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদান বিবেচনা করে অবিলম্বে আকিবুল রহমান মনু ও তামজিদুর রশীদ গালিবের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় ও যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।