রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার।
একই সঙ্গে তাঁর পাঠানো প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে রংপুরের জেলা প্রশাসক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন।
সরেজমিনে নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর পানি কমতে শুরু করার পর থেকেই তিস্তার ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। নদীর প্রচণ্ড স্রোতে প্রতিদিনই ভেঙে পড়ছে নদীতীর। আতঙ্কে শেষ সম্বল বাঁচাতে ঘরের টিন, কাঠ, দরজা-জানালা ও গৃহস্থালির মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন অনেক পরিবার। কেউ কেউ আবার চোখের সামনেই বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখছেন।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনের ভাঙনে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং শত বিঘা আবাদি জমি নদীতে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ফলে নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত পরিবারের মাঝে সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাঠানো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রংপুরের জেলা প্রশাসক ২৩ জুলাই বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়ায় ২২টি এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ১৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনরত নদীতীর থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নোহালী ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুরোধ জানিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বিষয়টি সুপারিশসহ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরই তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বসতভিটা হারাতে হচ্ছে। সাময়িক ত্রাণ কিছুটা স্বস্তি দিলেও স্থায়ীভাবে নদীশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় তাদের দুর্ভোগ কমছে না। দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান তারা।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে নোহালী ইউনিয়নের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা, অসংখ্য বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তিস্তার ভয়াল গ্রাসে বিলীন হয়ে যেতে পারে।