রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের ভাই-বোনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত দুজনকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের কুড়িবিশ্বা কুঠিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে এজাহার সূত্রে জানা যায়।
এ ঘটনায় মো. বাদল মিয়া (২৮) গঙ্গাচড়া মডেল থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দিয়েছেন। এজাহারে জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে বাড়িতে ঢুকে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ রয়েছে ।
এজাহার সূত্রে জানা যায় , অভিযুক্তরা প্রথমে তাদের বসতভিটা থেকে বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য হুমকি দেন। এতে প্রতিবাদ করলে তারা লাঠি, দা, ছুরি, লোহার রড ও কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়।
হামলায় বাদী মো. বাদল মিয়া, তার বড় ভাই কাজল মিয়া ও বোন আয়েশা সিদ্দিকা আহত হন । ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কাজল মিয়ার ডান হাতের আঙুলে কাটা জখম হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয় । একপর্যায়ে তাকে রশি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা বাড়িঘরের টিনের বেড়া ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরে বাড়িতে থাকা বিভিন্ন মালামাল বের করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় এবং ঘরে থাকা মালামাল লুটপাট করা হয়। এ ছাড়াও হামলাকারীরা কাজল মিয়ার শয়নকক্ষে থাকা চালের ড্রাম থেকে ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় । ভাঙচুর ও লুটপাটে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন বলে এজাহারে চারজন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে আহতদের গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর কাজল মিয়া ও আয়েশা সিদ্দিকাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাদী মো. বাদল মিয়া বলেন, বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিক হওয়া স্বত্বেও আমি আজ নিরুপায়,অসহায় । আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সভাপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে এই হামলা ও প্রাণ নাশের হুমকির বিষয়ে আমি রাষ্ট্রের কাছে আমার ও পরিবারের সকলের নিরাপত্তা চাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ আব্দুর ছবুর বলেন অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।