প্রতিনিধি:‘জলবায়ু অভিঘাত পেরিয়ে গ্রামীণ নারী ক্ষমতায়ন ও সমৃদ্ধির পথে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন (গ্রাউস)-এর উদ্যোগে উপজেলার ৪ নম্বর নোয়াপতং ইউনিয়নের আন্তাহার বাজার এলাকায় দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি বাজার এলাকা থেকে বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
পরে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রাউসের উপজেলা ফোকাল পার্সন ও ক্রিয়া প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার অংচউ মারমা সঞ্চালনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিআরইএ ক্রিয়া প্রকল্পের সমন্বয়কারী অম্লান চাকমা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াপতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চনুমং মারমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউপি সদস্য মেনুপ্রু মারমা, সমাজসেবক নেফাচন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা এবং গ্রাউসের কর্মকর্তা অম্লান চাকমা। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন, টেকসই কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রামীণ নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁদের অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তাঁরা বলেন, বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রামীণ নারী কৃষকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সরাসরি কৃষক কার্ড প্রদান বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। একই সঙ্গে সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গ্রামীণ নারীদের নেতৃত্ব বাড়াতে হবে।
এ ছাড়া স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। তাঁদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গ্রামীণ নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করা জরুরি।