সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি-সংবাদ লেখার কলাকৌশল

ডেস্ক রিপোর্টঃ

Date: মঙ্গলবার, জানুয়ারী ০৬, ২০২৬
news-banner

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা । এ পেশার প্রতি দুর্বলতা রয়েছে অধিকাংশ সচেতন মানুষের । সাংবাদিকতা পেশায় যেমন রয়েছে ঝুঁকি, তেমন রয়েছে সম্মান ও রোমাঞ্চ। অপ-সাংবাদিকতা বাদ দিলে যে টুকু থাকে তার সব টুকুই আত্মতৃপ্তি পাওয়ার জন্য একটি স্বাধীন পেশা সাংবাদিকতা । আর এই কারনেই সংবাদপত্রকে সমাজের দর্পণ আর সাংবাদিকদের জাতির বিবেক বলে আখ্যায়িত করা হয় । এ ছাড়া সংবাদ পত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবেও স্বীকৃত।একজন সৎ নির্ভিক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিক সমাজের কাছে যেমন সমাদৃত তেমন দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, চোরাচালানী, মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ী ও সমাজ বিরোধীদের কাছে আতংক । প্রয়াত কাঙ্গাল হরিনাথ, এ কালের নিউজ এজ এর সম্পাদক শ্রদ্ধেয় নুরুল কবীর, মোনাজাত উদ্দীন, শামছুর রহমান কেবলসহ অনেককেই উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।


সাংবাদিক হওয়ার যোগ্যতা:


সাংবাদিক হওয়ার জন্য শিক্ষার কোন উল্লেখযোগ্য মাপকাঠি না থাকলেও ভাষা ও বানান সম্পর্কে সতর্ক জ্ঞান থাকা আবশ্যাক । এ ছাড়া যিনি, সাংবাদিকতার মত ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত হতে চান তার থাকতে হবে মানসিক ও শারীরিক যোগ্যতা। একজন সাংবাদিককে হতে হবে মেধাবী, স্মার্ট ও চটপটে। থাকতে হবে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মত ধর্য্য, সাহস ও মানসিকতা। ভদ্রোচিত ব্যবহার সাংবাদিকের একটি বিশেষ গুণ।সাংবাদিককে নিরপেক্ষ হওয়া বাধ্যতামুলক। এ ছাড়া সাংবাদ সরবরাহকারীদের (সোর্স ) কাছে হতে হবে একজন প্রকৃত বন্ধুর মত বিশ্বস্ত। কোন পরিস্থিতিতেই সংবাদের সোর্সের নাম প্রকাশ করা যাবে না। পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত পোষাকও একজন সাংবাদিকের গ্রহণযোগ্য করে তোলে। 


সংবাদ সংগ্রহ করবেন কোথা থেকেঃ


সংবাদ সংগ্রহের জন্য রয়েছে অনেক উৎস তা হলো: 

(১) পুলিশ স্টেশন থানা/ ডিবি /ডিএসবি/ সিআইডি।

(২) হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল কলেজ। 

(৩) ফায়ার ব্রিগেড 

(৪) বিমান বন্দর 

(৫) নদী বন্দর 

(৬) রেলওয়ে স্টেশন 

(৭) কাস্টম অফিস 

(৮) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসসহ সরকারী ও বে-সরকারী সকল প্রতিষ্ঠান (৯) ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী 

(১০) প্রেসনোট 

(১১) প্রেস রিলিজ 

(১২) হ্যান্ড আউট 

(১৩) সামাজিক সংগঠন 

(১৪) জেলা প্রশাসন 

(১৫) উপজেলা প্রশাসন 

(১৬) ইউনিয়ন পরিষদ 

(১৭) বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 

(১৮) বিজিবি 

(১৯) স্থল বন্দর 

(২০) এনজিওসহ সমাজের ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি হতে পারে সংবাদের সোর্স ও উৎস ।


সংবাদ সংগ্রহের জন্য যা থাকা প্রয়োজনঃ 

সংবাদ সংগ্রহের জন্য একজন সাংবাদিকের থাকতে হবে Nose for News অর্থাৎ সংবাদের গন্ধ শুকার মত একটা নাক বা সহজাত প্রবৃত্তি। এর সাথে থাকতে হবে নোটবুক, ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, মিনিক্যাসেট, ফোন, মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ই-মেইল, বাইসাইকেল কিংবা মটর সাইকেল ।একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার বার্তা সম্পাদকের কাছে শুনেছি, একজন পেশাদার সাংবাদিকের কাছে আর কিছু থাক আর না থাকুক অন্ততঃ একটি কলম থাকা বাধ্যতামুলক। কলম থাকলে জরুরী কোন সংবাদের তথ্য বাম হাতের তালুতেও লিখে রাখা যায়। 


সংবাদ লেখার মূল নিয়ম হলো 'উল্টো পিরামিড' (Inverted Pyramid) পদ্ধতি অনুসরণ করা, যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (কে, কী, কেন, কোথায়, কখন, কীভাবে - 5W + 1H) দিয়ে শুরু করে ক্রমান্বয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগ করা হয়; ভাষা সহজ ও স্পষ্ট রাখতে হবে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে, সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং একটি আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত শিরোনাম দিতে হবে, যা পাঠকের আগ্রহ তৈরি করে। 


সংবাদ লেখার মূল কাঠামো:


শিরোনাম (Headline):


সংক্ষিপ্ত, আকর্ষণীয় এবং মূল বার্তার সারমর্ম তুলে ধরবে। 


অপ্রয়োজনীয় শব্দ (যেমন: 'একটি', 'একটি') বাদ দিতে হবে। 


সূচনা (Lead Paragraph):


এটি সংবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রথম অনুচ্ছেদে থাকে। 


এখানে 'কে', 'কী', 'কবে', 'কোথায়', 'কেন' ও 'কীভাবে'-এর উত্তর সংক্ষেপে দিতে হবে। 


সাধারণত ৩০ শব্দের মধ্যে লেখা ভালো এবং সক্রিয় (active voice) ভাষা ব্যবহার করা উচিত। 


মূল অংশ (Body):


সূচনাকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করবে। 


গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো আগে, তারপর প্রাসঙ্গিক তথ্য ও প্রেক্ষাপট যোগ করতে হবে (উল্টো পিরামিড)। 


উদ্ধৃতি (Quotes) ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো যায়। 


বিষয়ভিত্তিক অনুচ্ছেদ এবং উপশিরোনাম ব্যবহার করা যেতে পারে। 

উপসংহার (Conclusion):


এখানে নতুন কোনো তথ্য না দিয়ে মূল বিষয় সংক্ষেপে বা ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে, তবে সাধারণত মূল অংশেই শেষ হয়ে যায়। 


গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলী:


সরল ভাষা: সহজবোধ্য ও স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করুন, জটিলতা এড়িয়ে চলুন। 


নিরপেক্ষতা ও সত্যতা: নিজস্ব মতামত দেবেন না, তথ্য যাচাই করুন এবং পক্ষপাতদুষ্ট হবেন না (No Opinion, Just Facts)। 


সময় ও স্থান: সংবাদের উপাদান অনুযায়ী সঠিক সময় ও স্থান উল্লেখ করুন। 


উদ্ধৃতি: প্রাসঙ্গিক ব্যক্তির উদ্ধৃতি ব্যবহার করুন, তবে অতিরিক্ত নয়। 


সম্পূর্ণতা: সংবাদের সমস্ত মৌলিক প্রশ্নের উত্তর যেন থাকে। 


প্রুফরিডিং: বানান ও ব্যাকরণগত ভুল এড়িয়ে চলুন। 


সংক্ষেপে, একটি ভালো সংবাদের মূল ভিত্তি হলো "কে, কী, কোথায়, কখন, কেন, কীভাবে"—এই ৬টি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা, যা পাঠকের কাছে সহজবোধ্য হয়


কোন কোন বিষয়ের উপর সংবাদ লিখবেনঃ


আমাদের চারপাশে আমরা যা প্রত্যক্ষ করি তার অধিকংশই সংবাদের বিষয় হতে পারে। এরপরও নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর সংবাদ লিখলে তা হতে পারে পাঠকের কাছে বিশেষ গ্রহন যোগ্য ।যেমনঃ খুন, ধর্ষন, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, দূর্ঘটনা , অপহরণ, মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, সন্ত্রাস, অগ্নিকান্ড, যৌতুক, আইন-শৃংখলা, সমস্যা ও সংকট, পরিবহন, রাস্তা , কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রোগ-ব্যাধি, চিকিৎসা, আদালত সংক্রান্ত, ব্যাংক বীমা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, নদ নদী, কৃষি, মৎস্য ও গবাদী পশু, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিদুৎ, রাজনৈতিক ইত্যাদি বিষয়ের উপর সংবাদ লেখা যেতে পারে। এছাড়া ব্যক্তিগত, সামাজিক নানাবিধ সমস্যা ও তার উত্তরণের উপর সংবাদ লেখা যেতে পারে। সংবাদ সংগ্রহের জন্য অনেক আগে থেকেই সাংবাদিকরা একটি সহজ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন । এ পদ্ধতিকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘‘ফাইভ ডাব্লুউ ওয়ান এইচ ’’ ফরমুলা। বাংলায় বলা হয় ‘‘ষড় ক’’ ফরমূলা । 

যেমনঃ (১) কে (২) কবে (৩) কখন (৪) কোথায় (৫) কি ভাবে (৬) কেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়ঃ র্সোস জানালেন, এক ব্যক্তি খুন হয়েছে।

 ‘‘ষড় ক’’ ফরমূলায় একজন সাংবাদিক সোর্সের কাছে প্রশ্ন করবেন এই ভাবেঃ (ক) কে খুন হয়েছে (খ) কবে খুন হয়েছে (গ) কখন খুন হয়েছে (ঘ) কোথায় খুন হয়েছে (ঙ) কিভাবে খুন হলো (চ) কে বা কারা খুন করলো। প্রশ্ন গুলোর উত্তর সঠিক নিয়মে সাবলীল ভাষায় লিখলেই সংবাদ হয়ে যাবে।


সোর্স নিয়োগে সতর্কতাঃ


তিনিই হবেন একজন জনপ্রিয় সাংবাদিক যার রয়েছে সর্বস্তরে সোর্স। তবে সোর্স নিয়োগের ক্ষেত্রে অবলম্বন করতে হবে বিশেষ সতকর্তা। সোর্স নিয়োগের পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার জ্ঞান কতটুকু এবং তিনি ঐ সংবাদের ব্যাপারে কতটা নিরপেক্ষ তা যাচাই করে নিতে হবে। নইলে ভুল তথ্যের জন্য আপনার কষ্ট করে লেখা সংবাদটি গ্রহন যোগ্যতা হারাতে পারে। আবার আপনার সম্পর্কে মানুষের মাঝে জন্মাতে পারে ভ্রান্ত ধারণা।


কি ভাবে সংবাদ লিখবেনঃ

শুরুতেই আমাদের জানতে হবে সংবাদ বা রিপোর্ট কি? 


সংবাদ বা রিপোর্ট অর্থ প্রতিবেদন। চাহিদামত তথ্য বা রেকর্ডকে সুবিন্যস্ত করে তুলে ধরাই হলো রিপোর্ট (Report)।


সংবাদ প্রতিবেদন লেখার নিয়ম


সংবাদ প্রতিবেদন লেখার নিয়ম সম্পর্কে আমরা অনেকে প্রায়ই দ্বিধায় পড়ে যাই। অনেকেই প্রতিবেদন লেখার ধাঁচটা ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। আজ আমরা এ বিষয়েই কথা বলবো। কিভাবে সংবাদ প্রতিবেদন লেখা উচিত, কোন্ ধরনের তথ্য কোথায় ব্যবহার করা উচিত, ধাঁচটাই বা কী হবে- ইত্যাদি তথ্য আজ আমরা আপনাদের জানাবো।


ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন অনেক ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন, তদন্ত প্রতিবেদন, তথ্যভিত্তিক বা অ্যানালিটিকেল প্রতিবেদন, সংবাদ প্রতিবেদন ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে সংবাদ প্রতিবেদন আমাদের প্রায় সারা জীবনই কাজে লাগে।


শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাংবাদিক, এমনকি শিক্ষক কিংবা বিভিন্ন অফিসের পদস্থ কর্মকর্তাদেরকে প্রায়শই এ ধরনের প্রতিবেদন লিখতে হয়। এ কারণেই সংবাদ প্রতিবেদনকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।


তাহলে চলুন দেরী না করে শেখা যাক সংবাদ প্রতিবেদন লেখার নিয়ম।


সংবাদ প্রতিবেদন লেখার ফরম্যাট

এ ধরনের প্রতিবেদন পেশা ভেদে বিভিন্ন ফরম্যাটে হয়ে থাকে। যেমন- এক জন শিক্ষার্থী যেভাবে লিখবে, এক জন পেশাদার সাংবাদিক হয়তো সেই ফরম্যাটে লিখবেন না। তবে ফরম্যাট যেমনই হোক না কেন, প্রতিবেদন লেখার মূল নিয়ম বা Core Topic একই ধাঁচের হয়ে থাকে।


এক জন পেশাদার সাংবাদিক প্রতিবেদন লেখার সময় সরাসরি মূল প্রতিবেদন লিখে ফেলেন। আবার, এক জন সাধারণ নাগরিক যখন প্রতিবেদন লিখে সেটা পত্রিকায় প্রকাশ করতে চান, তখন সেটা প্রকাশের অনুরোধ সহ আলাদা একটা চিঠি বা দরখাস্ত সাথে দিতে হয়।


আবার, এক জন শিক্ষার্থী যখন সিলেবাসের অংশ হিসেবে সংবাদ প্রতিবেদন লিখবে, তখন সাধারণভাবে প্রকাশের অনুরোধ সহ চিঠি বা দরখাস্ত লিখতে হয় না। কিন্তু, প্রশ্নে যদি প্রকাশের অনুরোধ/আবেদন সহ লিখতে বলা হয়, তবে সে নির্দেশনা অনুযায়ী লিখতে হবে। 


প্রতিবেদন লেখার সময়, শিরোনাম, নিজের নাম (বা “নিজস্ব প্রতিবেদক”), এলাকার নাম, তারিখ ইত্যাদি সংযুক্ত করতে হবে।


সংবাদ প্রতিবেদন লেখার নিয়ম

বুঝানোর সুবিধার্থে এ ধরনের প্রতিবেদন লেখার নিয়মকে ২ টি অংশে ভাগ করে নিচ্ছি। একটা বাহ্যিক নিয়ম, আরেকটা অন্তঃস্থ নিয়ম বা লেখার কৌশল। 


বাহ্যিক নিয়মের মধ্যে বোঝানোর চেষ্টা করবো, কিভাবে আপনি একটা প্রতিবেদন শুরু করবেন, কী কী তথ্য অন্তভূক্ত করবেন, কী কী করবেন না ইত্যাদি। “লেখার কৌশল” সেকশনে বলবো, প্রতিবেদনে কোন্ ধাপে আপনি ঠিক কোন্ ধরনের তথ্য প্রদান করবেন।


বাহ্যিক নিয়ম

শিরোনাম

সংবাদ প্রতিবেদন লেখার সময় শুরুতেই ১ টি আকর্ষণীয় শিরোনাম দিতে হয়। আকর্ষণীয় শিরোনাম দেয়ার নিয়ম নিয়ে বলতে গেলে আসলে বিশাল একটা লেকচার হয়ে যাবে। তাছাড়া এ নিয়ে বেশি গভীরে গেলে সেটা জার্নালিজম বিষয়ের হায়ার স্টাডি হয়ে যাবে। তাই বেশি ব্যাখ্যা না করেই বলার চেষ্টা করবো।


আকর্ষণীয় শিরোনামের মাধ্যমে মূলত মানুষকে প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য আকৃষ্ট করা হয়। মানুষ শিরোনাম দেখে আগ্রহী হলে, তবেই পুরো প্রতিবেদনটি পড়ে। একইভাবে, আকর্ষণীয় শিরোনাম দিতে পারলে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অর্থাৎ, শিরোনাম কী দেয়া হবে- সেটা নিয়ে একটু চিন্তা করতে হবে।


আমাদের দেশে শিরোনামকে আকর্ষণীয় করতে গিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক পন্থা ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ইউটিউবিং বা ব্লগিং এর ক্ষেত্রে এ ধরনের মিসলিডিং টাইটেল বেশি ব্যবহৃত হয়। এসব অতি রঞ্জিত বা অতি চটকদার শিরোনাম মানুষকে বিরক্ত করে তোলে। তাই অতি রঞ্জন না করেই, শিরোনামকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।


আমি ৩ টি উদাহরণ দিচ্ছি। 


১। সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু


২। সড়ক দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে গেলো ৩ শিক্ষার্থীর জীবন


৩। দেখুন, কিভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা পড়লো ৩ শিক্ষার্থী


এখানে আমি একই কথাকেই ৩ রকম ভাবে লিখেছি। প্রথম শিরোনামটি অতি সাধারণ, যেটা হয়তো বেশিরভাগ মানুষই ব্যবহার করবে। দ্বিতীয় শিরোনামটি একটু আকর্ষণীয়, যেটা একই বিষয়কে উপস্থাপন করছে। কিন্তু, ২য় শিরোনামটির কারণে মানুষ কিছুটা আকৃষ্ট হবে। 


কিন্তু, ৩য় শিরোনামটি খেয়াল করলে দেখা যাবে- এটা অতি রঞ্জিত। এ ধরনের শিরোনাম দেখেই মানুষ প্রতিবেদনটি পড়তে আগ্রহী হবে। কিন্তু, প্রতিবেদন পড়া শেষে নিরাশ হতে হবে। কারণ, শিরেনামে যতটা অতি রঞ্জিত করা হয়েছে, প্রতিবেদনের ভেতরের ততটা মশলা নেই। 


শিরোনাম নিয়ে কথা এতটুকুই। শিরোনাম হতে হবে আকর্ষণীয়, ভেতরের কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাস্তব। শিরোনামের উপরই পাঠকের আগ্রহ অনেকাংশে নির্ভর করে।


তথ্য

প্রতিবেদনের ভেতর সাধারণত কোনো ঘটনার সময়, স্থান, কারণ, ঘটনা প্রবাহ ইত্যাদি উল্লেখ থাকে। সংবাদ প্রতিবেদনে- কী, কখন, কোথায়, কেন, কিভাবে ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর পাঠকের কাছে ফুটিয়ে তুলতে হয়। 


যদি প্রতিবেদন কোনো বিগত ঘটনা নিয়ে করা হয়, তখন সেটার বিবরণ, সময়, স্থান, ঘটার কারণ, ঘটনার ক্রমধারা ইত্যাদি উল্লেখ করতে হয়। আর যদি ভবিষ্যতের ঘটনা ঘটে, তাহলে ভবিষ্যতে কখন ঘটতে পারে, কোথায় ঘটব

Leave Your Comments