পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় লিজ নেওয়া প্রায় সাড়ে সাত বিঘা চা বাগান দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন প্রধানের বিরুদ্ধে। গত ৩১ মার্চ শালবাড়ি সরদারপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগীরা বোদা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং দখল হওয়া চা বাগান ফেরত পেতে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করলেও কোনো সমাধান মিলছে না।
অভিযোগ করা হয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে বাগানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন এবং সেখানে নিয়মিত শোডাউনও চলছে। ভুক্তভোগীদের বাগানে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী চার লিজগ্রহীতা জানান, তারা ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০৪১ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২৫ বছরের জন্য দুই একর ৪০ শতক জমি লিজ নেন। জমি উন্নয়ন করে সেখানে চা গাছ লাগান। ২০১৮ সালের বন্যায় ক্ষতি হলেও তারা আবার নতুন করে বাগান তৈরি করেন। করোনার সময় চায়ের দাম না থাকলেও ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করেছেন। কিন্তু কাঁচা চা পাতার দাম বাড়ার পর লিজের ১০ বছরও না যেতেই জমি দখলে নেন সাবেক চেয়ারম্যান।
লিজগ্রহীতা তাসরিফুল ইসলাম তমু বলেন, জমিতে জঙ্গল থাকায় প্রথমে পরিষ্কার করে চা চাষ উপযোগী করা হয়। পরে নিয়মিত ভাড়া দিয়ে পরিচর্যা চালিয়ে গেছেন তারা। চা পাতার দাম বাড়ায় কিছুটা আশার আলো দেখলেও চেয়ারম্যান অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। পরে বাগানে গেলে তিনি তাদের হুমকি দিয়ে বের করে দেন। তিনি জানান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে একবার পাতা কেটে বিক্রি করা হলেও এখন আর যেতে পারছেন না হুমকির কারণে। চা পাতা বিক্রির অর্থ থানায় জমা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে এলাকায় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমিগুলো আগে অনাবাদি ছিল। তমুরা অনেক পরিশ্রম করে বাগান তৈরি করেছেন। সাবেক চেয়ারম্যানের দখল নেওয়ার ঘটনা অনৈতিক বলে মন্তব্য করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে রুহুল আমিন প্রধান বলেন, জমি লিজ দেওয়া হয়েছিল ঠিকই। তবে লিজগ্রহীতারা চা গাছের ভেতরে আমগাছ লাগিয়ে তাকে কোনো ফল দেননি। পিকনিক করলেও তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, অসুস্থ বোনের চিকিৎসার জন্য ৪০ হাজার টাকা চাইলে তা ঠিকমতো না দেওয়ায় তিনি জমি ফিরিয়ে নিয়েছেন। এখন কেউ কিছু করলেও তিনি জমিতে যেতে দেবেন না বলে জানান।
বোদা থানার ওসি সোয়েল রানা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়। গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে চা পাতার বিক্রির অর্থ থানায় জমা রাখা হয়েছে। জমি ও লিজ চুক্তি সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় প্রয়োজন হলে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চা বাগান দখল নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ এখনো মীমাংসা হয়নি। ভুক্তভোগীরা প্রশাসন ও আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে জমি ফেরত পাওয়ার আশা করছেন, আর এলাকাবাসী দ্রুত সমাধান চায় যাতে উত্তেজনা না বাড়ে।