বিএনপির নাম ভাঙিয়ে যুবলীগ নেতার চাঁদাবাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক

Date: বৃহস্পতিবার, মে ০৭, ২০২৬
news-banner
নারায়ণগঞ্জ শহরে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এক যুবলীগ নেতার চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
একসময় শামীম ওসমানের অনুসারী এবং পলাতক কাউন্সিলরের সহযোগি হিসেবে চিহ্নিত ওই চাঁদাবাজ ৫ আগস্টের পরে যুবদলের নেতা সেজেছে।পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এলাকায় মাদক ব্যাবসা,চাঁদাবাজি ও দখলবাজি সহ নানা অপকর্ম করেছে সে।তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

নগরীর ১৮ নং ওয়ার্ড বাপ্পি চত্বর মুসলিম নগর এলাকার মৃত: সামসু মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম নজু (৩২)দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় নানা রকম অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।দীর্ঘ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমানে সে নিজেকে যুবদলের নেতা পরিচয় দিয়ে নানা অপরাধ করে চলেছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, নজরুল ইসলাম নজু যুবলীগ নেতা হিসেবে পলাতক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল হাসান মুন্নার ঘনিষ্ঠ দোসর ছিলেন।সে আজমেরী ওসমানের লোক পরিচয়ে বিভিন্ন অপরাধ সম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন।সে শহীদ নগর ও বাপ্পি চত্বর এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিশাল মাদক ব্যাবসায়ী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট।স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদের সামনে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে নজু ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা।কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।
তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট উঠেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ,বহুবছর ধরে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ দোসর ছিলেন নজরুল ইসলাম নজু।অথচ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে সে যুবদলের নেতা সেজেছে।সেই আগের মতই বেপরোয়া সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করছে।যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, তখন সেই দলের অনুসারী হয়ে যায় এই সুযোগ সন্ধানীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিতাই গঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ট্রাক বা মালবাহী যানবাহন থেকে ২'শ থেকে ৫'শ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ওই নজু ও তার লোকজন।সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানবাহন থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করে তারা।তাদের পেছনে অদৃশ্যশক্তি রয়েছে। তাই প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কেউ ব্যাবস্থা নেয়না।

সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর ব্যাপারী বলেন , জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পরে শহরে কিছু সুযোগ সন্ধানীর আবির্ভাব হয়েছে। যারা ফ্যাসিবাদের দোসর ছিলো। তারা এখন এলাকাভিত্তিক চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকব্যবসা করছে। কেউ এলাকাভিত্তিক বাড়ি নির্মাণে ইট বালু সিমেন্ট দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষকে বাধ্য করছে। এলাকাভিত্তিক তালিকা করে মোড়ে মোড়ে এদের নাম ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের নামসহ টাঙিয়ে দিতে হবে।তাদের কোনো দল নেই। তাদের সাথে দলের কেউ জড়িত থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অপকর্ম করে বেশিদিন টিকতে পারবে না কেউ।

ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল-আরিফ জানান,কিছু অনুপ্রবেশকারী পরিচয় গোপন করে দলে ঢুকে পড়েছে।তারা ফ্যাসিবাদের দোসর।দলের ভাবমূর্তি নস্ট করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে ওরা।তাই সরকারের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।কাউকে দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করতে দেওয়া হবে না। 

এ বিষয় জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম নজু মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলেন,আগে যেভাবে সিস্টেম করে চলছি,এখনো সেভাবেই করছি।যা ইচ্ছে লেখেন কিছুই করতে পারবেন না।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন,চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ।জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে পুলিশ। কোন অপরাধী কে ছাড় দেওয়া হবে না,সে যেই হোক।

Leave Your Comments