ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বাবার সঙ্গে অনলাইন জুয়ার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আন্দালিব সাদমান রাফি (৮) নামের এক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুমের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নূর মুহাম্মদ খোকন (২০) নামের একজকে আটক করেছে পুলিশ।
৯ মে-২০২৬ ইং তারিখ রোজ শনিবার দুপুরে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামে তার বাড়ির স্যানেটারি ল্যাট্রিনের রিং স্ল্যাবের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত রাফি জমিনপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের পূত্র এবং মুক্তাগাছা শহরের একটি রেসিডেন্সিয়াল মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানাগেছে,৮ মে-২০২৬ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার বেলা আনুমানিক ১১টার পর থেকে রাফিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাতে তার পরিবার মুক্তাগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শিশুটির বাবার সন্দেহের ভিত্তিতে শনিবার সকালে পাশের বাড়ির বাসিন্দা নূর মুহাম্মদ খোকনকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে খোকন জানান, তিনি অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং এ নিয়ে রাফির বাবা জহিরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল।
পুলিশের ভাষ্যমতে, বাবার প্রতি ক্ষোভ থেকেই খোকন প্রথমে শিশুটিকে অপহরণ করে এবং পরে হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করেন।
নিহত শিশুর বাবা জহিরুল ইসলাম জানান, খোকন অনলাইন জুয়ার এক লাখ টাকা পাওনা নিয়ে ঝামেলায় ছিলেন। তিনি ও স্থানীয় কয়েকজন মিলে সেই টাকা উদ্ধার করে দিয়েছিলেন। পরে এ নিয়ে খোকন ক্ষুব্ধ হয়ে তার ছেলেকে হত্যা করেছে বলে তিনি জানান।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন,শিশু নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি হওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ এবং সন্দেহভাজন খোকনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ(মমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন।