সুন্দরবনে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী সঙ্গে কোস্টাগার্ডে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গোলাবরুদসহ আটক হয়েছেন দস্যু বাহিনী সক্রিয় তিন সদস্য। দস্যুদমনে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযান চলাকালে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়াখালী খাল সংলগ্ন এলাকায় বনদস্যু ও কোস্টগার্ডের মধ্যে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আটক তিন দস্যু এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করেছে কোস্টগার্ড। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে গত বুধবার (১৩ মে) সকালে বনবিভাগের সঙ্গে করিম শরীফ বাহিনী বন্দুকযুদ্ধ হয়েছিল। ওই সময় জব্দকৃত দস্যু বাহিনীর টলার থেকে শেকলে হাত-পা বাধা জিম্মি চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়। ওই চার জেলেকে কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করেছে বন বিভাগ। কোস্টগার্ডে মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমা-ার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
আটক দস্যুরা হলেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মো. মেহেদী হাসান (২৫), মো. রমজান শরীফ (১৯) এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মো. এনায়েত (২৫)।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজনের ভাষ্যমতে, গত বুধবার (১৩ মে) বিকেল ৫টা থেকে দুদিনব্যাপী ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করেন কোস্টগার্ড মোংলা বেইস এবং সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কোকিলমনি স্টেশনের কোস্টগার্ড সদস্যরা। অভিযানের দ্বিতীয় দিন দুপুরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা শরণখোলা থানাধীন সুন্দরবনের শ্যালা নদীর চানমিয়াখালী খাল এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যে ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান শুরু করলে বনের ভেতর থেকে কোস্টাগার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে দস্যুরা। একপর্যায় কোস্টগার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধাঘন্টা গোলাগুলি হয় উভয় পক্ষের মধ্যে।
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, শেষপর্যন্ত কোস্টগার্ডের তীব্র প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে পালানোর চেষ্টা করেন দস্যুরা। এসময় ধাওয়া করে করিম শরীফ বাহিনীর তিন দস্যুকে ধরতে সক্ষম হন কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে দস্যুদের ফেলে যাওয়া ৩টি একনলা বন্দুক, ১টি দেশি পিস্তল, ৪৯ রাউ- তাজা কার্তুজ, ১৮৭ রাউ- এয়ারগানের কার্তুজ, ২টি ওয়াকিটকি ও ৪টি ওয়াকিটকি চার্জার উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ড আরো জানায়, আটককৃত তিন দস্যু দুর্ধর্ষ করিম শরীফ বাহিনী সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে দস্যুতা করে আসছেন। তারা জেলে-মৌয়ালদের অপহরণের পর জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন। আটক তিন দস্যু ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্র শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া বনবিভাগের অভিযানে উদ্ধার চার জেলেকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এব্যাপারে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তিন দস্যুসহ অস্ত্র, গোলাবরুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম থানায় নিয়ে আসে কোস্টগার্ড। এঘটনায় কোস্টাগার্ড বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শনিবার (১৬ মে) সকালে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হবে আসামীদের।