ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও গৌরীপুর সরকারি কলেজের সাবেক জিএস মজিবুর রহমান জানাযার নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারলেও দাফনে অংশ গ্রহন শেষে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
১৫ মে-২০২৬ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্যারোলে তিন ঘণ্টার জন্য মুক্তি পান তিনি। মজিবর রহমান উপজেলার পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক বাজার পশ্চিম মহল্লার মৃত জয়নাল আবেদীনের পূত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে,মজিবর হমানের মা হাজেরা খাতুন (৯০) বৃহস্পতিবার রাত ৯.১৫ মিনিটের দিকে বার্ধক্যজনিত কারনে নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ৫ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তান রেখে যান।
মৃত্যুর পর জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তি চেয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেন। প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মজিবুর রহমান পুলিশি পাহারায় মায়ের জানাজায় অংশ নিতে আসলেও জানাজা পাননি। পরে দাফনে অংশ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। জানাজা শেষে তাকে পুলিশি পাহারায় পূণরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মজিবুর রহমানকে ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর গৌরীপুর পৌর শহরের নিজ বাসার সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। গত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গৌরীপুর থানায় দায়ের করা বিষ্ফোরক মামলায় তিনি কারাবরণ করছেন।
জানাযা অংশ নিয়ে মজিবুর রহমান বলেন, রাজনীতি করলে জেল খাটতে হয়, এটা নিয়ে আমার কোন দুঃখ কষ্ট নেই। কিন্তু কষ্ট একটাই ২৪ অভ্যূত্থানের পর আমি ঢাকায় চলে গিয়েছিলাম। মা বেশি অসুস্থ হলে আমি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার পর গ্রেফতার হই। আমার কষ্ট একটাই আমি মায়ের শেষ সময়ে সেবা করতে পারি নাই।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, মজিবুর রহমান মায়ের জানাজায় অংশ নিতে আদালতের নির্দেশে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান। জানাজা ও দাফন শেষে পুলিশি পাহারায় তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।