পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শালবাহান ইউনিয়নের পেদিয়াগজ গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাইয়ের চা বাগানে বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করে গাছ পুড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী লুৎফা বেগমের মালিকানাধীন প্রায় ২৯ শতক জমিতে চা বাগান রয়েছে। যা তাদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও শ্রমে গড়ে তোলা এই বাগানটিই এখন ধ্বংসের মুখে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আব্দুল হান্নানের সঙ্গে তার ছোট ভাই আবু বক্কর সিদ্দিকের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছে। বিরোধের জেরে প্রতিহিংসাবশত আবু বক্কর সিদ্দিক রাতের আঁধারে বাগানে প্রবেশ করে বিষাক্ত আগাছানাশক বা ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই চা গাছগুলোর পাতা হলদে হয়ে যায় এবং পরে তামাটে রঙ ধারণ করে শুকিয়ে যেতে থাকে। এক সময় সবুজে ঘেরা বাগানটি এখন সম্পূর্ণরূপে বিবর্ণ ও প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। এতে করে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগানের প্রতিটি গাছই প্রায় মরণাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। অনেক গাছ ইতোমধ্যে শুকিয়ে গেছে, আর যেগুলো এখনো টিকে আছে সেগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। এ অবস্থায় পুরো বাগান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন পরিবারটি।
ভুক্তভোগী আব্দুল হান্নান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, নিজের কেনা জমি। সেই জমি দাবি করছে ছোট ভাই। কয়েকদিন আগে বাগান থেকে চা পাতা তুলে নেয়ার সময় আমি ধরে ফেললে তারা পালিয়ে যায়। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে হিংসাত্মকভাবে গত ১১ মে ভোরে চা বাগানে বিস্ফোরক দ্রব্য কীটনাশক ঔষধ (রান্ডপ) প্রযোগ করে সমস্ত চা বাগান পুড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে।
“নিজের আপন ভাই হয়ে কীভাবে এমন নিষ্ঠুর কাজ করতে পারে, তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। এই বাগানটাই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা। এখন আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞ আমলী আদালত-০৪ (তেঁতুলিয়া) বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।
তার স্ত্রী লুৎফা বেগম বলেন, “আমরা অনেক কষ্ট করে, ধারদেনা করে এই বাগান করেছি। এখন সব শেষ হয়ে গেল। আমাদের বাঁচার আর কোনো উপায় নেই।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীরা এমন পারিবারিক বিরোধের জেরে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হতবাক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে সরজমিনে আবু বক্কর সিদ্দিককে পাওয়া না গেলেও তার মা ফাতেমা উল্টো অভিযোগ করে বলেন, ওয়ারিশান সূত্রে জমি। হান্নান যে দাগে চা বাগান দাবি করছে সেটা এ দাগ নয়। আর এ চা বাগান আমরা করেছি। বাগান দখলে রাখতে সে নিজেই তার বাগানে ঘাসমারা বিষ দিয়ে এখন তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দোষ চাপাইতে চাইছে। এটাতো হতে পারে না।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।