কোস্টগার্ডের অভিযানে পূর্ব সুন্দরবন থেকে দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর’ ও ‘দয়াল’ বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার হয়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বনদস্যু ও জলদস্যু বাহিনীর তান্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বনজীবিরা।
দস্যু নির্মূলে পরিচালিত ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় শুক্রবার ভোরে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত জেলেদের ইতিমধ্যেই কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তর মোংলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেলে উদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ফুসফুসের চর এলাকা থেকে ১২ জেলেকে এবং বুধবার (২০ মে) রাতে বনের ছাপড়াখালী এলাকা থেকে আরও ৬ জেলেকে অপহরণ করেছিল বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী।
এ ছাড়া বনদস্যু দয়াল বাহিনীর কাছে জিম্মি ছিলেন অন্য ৩ জেলে। তবে, এই তিন জেলেকে কবে এবং বনের কোন স্থান থেকে অপহরণ করা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও আরো কয়েকটি দস্যু বাহিনী জেলে ও মৌয়ালীদের মুক্তিপনের দাবীতে অপহরন করে জিম্মি করছে। মুক্তিপন না দিয়ে কেউ ছাড়া পাচ্ছেনা।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, কোন কোন বনদস্যু বাহিনী অগ্রীম টাকা নিয়ে বনে মাছ ধরার অনুমতি দিচ্ছে। সুত্র জানায়, ইতিপূর্বে আত্মসমর্পনকৃত বনদস্যু বাহিনী প্রধান ও তাদের দলের সদস্যদের মধ্যে অনেকে পুনরায় দস্যুতায় নেমেছে। বনজীবিরা বনদ্যুদের নির্মুলে আগের মতো র্যাবের অভিযান দেখতে চায়।
উদ্ধার হওয়া ২১ জেলের মধ্যে ১৮ জনই বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর এলাকার বিভিন্ন মৎস্য ব্যবসায়ীর দাদন দেয়া জেলে।