দুর্ঘটনার কবলে পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে ফার্নিচারমিস্ত্রি সিপন: চিকিৎসা খরচ মেটাতে নিঃস্ব ভূমিহীন পরিবার

রংপুর প্রতিনিধি:

Date: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
news-banner
সৈয়দপুর-রংপুর সড়কে বেপরোয়া গতির একটি অজ্ঞাতনামা বাসের ধাক্কা থেকে বাঁচতে গিয়ে অটোরিকশা উল্টে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন তরুণ ফার্নিচারমিস্ত্রি মোঃ সিপন মিয়া (২৫)। বর্তমানে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচার শেষে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতোমধ্যে তার চিকিৎসা ও অপারেশন বাবদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করে পরিবারটি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে পুরোপুরি সুস্থ করতে আরও বিপুল অর্থের প্রয়োজন। আহত সিপনের বৃদ্ধ বাবা সাংবাদিকদের জানান, তাদের নিজস্ব কোনো বসতভিটা নেই। সিপনই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়ের ওপরই বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও অবুজ সন্তানের সংসার চলত। যুবকের এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটি এখন অথই সাগরে পড়েছে। কোতোয়ালী সদর থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে রাতে সিপন মিয়া অটোরিকশায় করে রংপুর থেকে তার শ্বশুরবাড়ি পাগলাপীরে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পাগলাপীর এলাকার আবুল খায়ের নিউ প্রজেক্ট সংলগ্ন সৈয়দপুর-রংপুর সড়কে একটি অজ্ঞাতনামা বেপরোয়া গতির বাস অটোরিকশাটির মুখোমুখি চলে আসে। ওই ঘাতক বাসের চাপ থেকে বাঁচতে গিয়ে অটোরিকশাটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে উল্টে যায়। এতে সিপনের পা গুরুতর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত হয়। বর্তমানে তার পায়ের ক্ষতটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরপরই তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ২৪ মে তাকে গ্রামের বাড়ি ডোমারে নিয়ে যাওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। এরপর তাকে দ্রুত নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তার পায়ের পচন ধরা মাংস কেটে ফেলেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য পুনরায় রংপুর মেডিকেল কলেজে রেফার করেন। কিন্তু সেখানে সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ও জরুরি চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে স্বজনরা তাকে বেসরকারি 'রংপুর এভারকেয়ার' হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানেই তার পায়ে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। দেশের বিদ্যমান 'সড়ক পরিবহন আইন' অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ও পঙ্গুত্বের শিকার ব্যক্তিবর্গের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক গঠিত "আর্থিক সহায়তা তহবিল" থেকে অনুদান বা ট্রাস্টি বোর্ডের সাহায্য দেওয়ার স্পষ্ট আইনি বিধান রয়েছে।আহত সিপন মিয়ার পরিবারটি সম্পূর্ণ ভূমিহীন এবং বর্তমানে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি পঙ্গুত্বের মুখোমুখি থাকায় পুরো পরিবারটি চরম মানবিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছে। এমতাবস্থায়, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের নিকট স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারের আকুল আবেদন—আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত সরকারি আর্থিক অনুদান মঞ্জুর করে যুবকের চিকিৎসা সম্পন্ন ও পরিবারটিকে রক্ষা করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Leave Your Comments