ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, সীমান্তে ‘পুশইন’-এর নামে ভারত যে কার্যক্রম চালাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী এবং মানবতাবিরোধী। তিনি বলেন, আমরা সীমান্তে যা দেখছি, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেসব মানুষের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
শুক্রবার বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা শাখার আয়োজনে তাঁর শুভাগমন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, ভারত যেভাবে মানুষকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং একটি অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ। আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সীমান্তে আমাদের বিজিবি সদস্যরা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। প্রয়োজনে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু একতরফাভাবে আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত আচরণ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমরা ভারতকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের ব্যানারে রাজপথে নামতে পারেনি। একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অন্যায়ের বিরুদ্ধে স
রব হয়েছিল। আমরা চেয়েছিলাম সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী ও ক্ষমতালোভী মহলের কারণে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ মো. আব্দুল হাই, সিনিয়র সহ-সভাপতি কারী মো. আব্দুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মো. সোহেল রানা এবং জেলা ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সুজনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।