ময়মনসিংহের তারাকান্দায় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের স্থায়ী কর্মচারী,নকলনবীশ ও সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখকদের কাজের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা-২০২৬ ইং অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ জুন-২০২৬ ইং তারিখ রোজ বুধবার তারাকান্দা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় নকলনবীশদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিগত তিন অর্থবছরে সম্পাদিত কাজের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়। উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী,২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ হাজার ৫৯৬টি দলিল ও নকল নিবন্ধনের মাধ্যমে ১০ কোটি ৯১ লাখ ৬৯ হাজার ৩১৭ টাকা রাজস্ব আয় হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ হাজার ৭০৩টি দলিল নিবন্ধনের বিপরীতে রাজস্ব আয় দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার ৪৬৫ টাকা। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত) ৪ হাজার ৭০৩টি দলিল ও নকল নিবন্ধনের মাধ্যমে ১৪ কোটি ৯৮ লাখ ৩১ হাজার ২৮২ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় নকলনবীশদের কাজের পরিমাণ ও মানের ভিত্তিতে সেরা নকলনবীশ নির্বাচন করা হয়। এতে নাসিমা আক্তার প্রথম, সাজিদা আক্তার দ্বিতীয় এবং রুমা আক্তার তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এছাড়া বর্ষসেরা অফিস স্টাফ হিসেবে মোঃ মনিরুজ্জামান এবং বর্ষসেরা দলিল লেখক হিসেবে মোঃ আলতাফ হোসেন সরকার নির্বাচিত হন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্য দেন তারাকান্দা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোঃ রহমত উল্লাহ লতিফ। নিবন্ধন আইন, ১৯০৮, দলিল লেখক সনদ বিধিমালা, ২০১৪, সঠিকভাবে দলিল প্রস্তুতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বিষয়ে আলোচনা করেন নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তা শেখ আব্দুস সামাদ আজাদ। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন পাগলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তা এম নাফিয বিন যামান। এছাড়া ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন, ২০২৩ এবং বালাম লিখন পদ্ধতি বিষয়ে আলোচনা করেন গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম।
বক্তারা আরও বলেন, নিবন্ধন সেবার মানোন্নয়ন, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদান, দলিল সংরক্ষণে অধিক সতর্কতা এবং সরকারি রাজস্ব আদায়ে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন নিশ্চিত করতে হবে। তারা দক্ষতা বৃদ্ধি ও আইনগত সহায়তা প্রদান করবেন।