মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র মডার্ন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এ অপারেশনে চিকিৎসাগত ত্রুটির অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজনরা ন্যায়বিচার ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগী লাকি (২৮) বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং তার স্বজনদের দাবি—ভুল চিকিৎসা ও অপারেশনজনিত জটিলতায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে পেটে ব্যথার সমস্যার কারণে লাকি চিকিৎসার জন্য ডা. কামরুন নাহারের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রামসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চিকিৎসক রোগীর লিভারের পাশে টিউমার রয়েছে বলে জানান এবং অপারেশনের পরামর্শ দেন। এ জন্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ের কথা বলা হলেও পরে ৩০ হাজার টাকায় সম্মতি হয় বলে দাবি পরিবারের। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা অগ্রিম জমাও দেওয়া হয় বলে তারা জানিয়েছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে অপারেশন করা হলেও প্রত্যাশিত স্থানের পরিবর্তে ভুলভাবে অস্ত্রোপচার করা হয়, যার ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে চিকিৎসক রোগীর অবস্থা জটিল উল্লেখ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে জানান।
রোগীর স্বামীর দাবি, অতিরিক্ত অর্থ জোগাড় করতে না পারায় দ্রুত রোগীকে অন্যত্র নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে যথাযথ চিকিৎসা নথি, ব্যবস্থাপত্র বা রেফারেন্স ছাড়াই রোগীকে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
পরবর্তীতে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নথি না থাকায় চিকিৎসা পেতে জটিলতায় পড়তে হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। রোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে কারও দায় প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।