রংপুরের সদর উপজেলার ৪ নং সদ্যপুষ্কুরণী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন তরুণ সমাজসেবক ও উদীয়মান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাসেল আহমেদ রাজ। রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভুরারঘাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের দেওয়া এক আবেগঘন ও সাহসী বক্তব্যে রাসেল আহমেদ রাজ জানান, দলীয় মনোনয়নের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি ৪ নং সদ্যপুষ্কুরণী ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের পাশে থাকতে চান। তিনি বলেন, "দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি মনোনয়ন না-ও দেয়, তবুও আলহামদুলিল্লাহ। কারণ আমার শক্তি কোনো পদ নয়, আমার শক্তি আপনারা—৪ নং সদ্যপুষ্কুরণী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। দল মনোনয়ন দিক বা না দিক—আমি নির্বাচন করব।" ক্ষমতার মোহ থেকে নয়, বরং মানুষের সেবা এবং বিশ্বাসের যোগ্য প্রতিনিধি হওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন। তার এই বলিষ্ঠ ও স্পষ্ট ঘোষণা বর্তমানে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে চরম নির্যাতন ও জেল-জুলুমের মুখোমুখি হতে হয়েছিল রাসেল আহমেদ রাজকে। বারবার হামলা, মামলা ও হয়রানির শিকার হলেও তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে মাঠ ছাড়েননি। শত প্রতিকূলতার মাঝেও রাজপথে সক্রিয় থেকে দল ও সাধারণ মানুষের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এলাকার মানুষ তাকে একজন 'নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতা' হিসেবেই মূল্যায়ন করেন। তবে দলীয় পরিচয়ের বাইরেও সদ্যপুষ্কুরণী ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম ও ওয়ার্ডে রাসেল আহমেদ রাজের রয়েছে এক অনন্য গ্রহণযোগ্যতা। তিনি নিয়মিত চষে বেড়াচ্ছেন ইউনিয়নের প্রতিটি প্রান্ত, শুনছেন সাধারণ ভোটার ও মেহনতি মানুষের সুখ-দুঃখের কথা। এলাকার তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দূরে রাখতে এবং যুবসমাজকে কর্মমুখী করতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় খেলাধুলার প্রসারে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন।একই সাথে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই তরুণ নেতা। মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব, ওয়াজ মাহফিল, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতার পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের পাশেও তাকে সবসময় অগ্রভাগে দেখা যায়। দুর্গাপূজাসহ সনাতন ধর্মের সকল উৎসব ও মন্দিরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছেন। ফলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তিনি 'আপনজন' হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে রাসেল আহমেদ রাজ একটি আধুনিক, বেকারমুক্ত এবং শতভাগ মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। উন্নত রাস্তাঘাট, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং শিক্ষা ও চিকিৎসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, সততা ও জবাবদিহিতামূলক একটি স্থানীয় প্রশাসন গড়ে তুলে সদ্যপুষ্কুরণী ইউনিয়নকে পুরো জেলার মধ্যে একটি আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে রূপান্তর করতে চান।
ইউনিয়নের একাধিক সাধারণ ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাসেল আহমেদ রাজ কেবল নির্বাচনের মৌসুমে নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে ছিলেন। আওয়ামী দুঃসময়ে নির্যাতিত এই নেতার সাহসী অবস্থান এবং দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে নির্বাচন করার ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনে সদ্যপুষ্কুরণী ইউনিয়ন পরিষদে রাসেল আহমেদ রাজ এক হেভিওয়েট ও জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবেন।