জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত মো. হাফেজ বর্তমানে "হকার্স দল" নামের একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের তৎকালীন ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ ক্যাডার সাবেক পলাতক কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান পলিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হাফেজ প্রকাশ্যে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় অংশ নেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, আন্দোলনের সময় ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় অনেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আহত হন বলে দাবি তাদের।
এলাকাবাসীর আরো বলেন, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অস্ত্রধারী ক্যাডার কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান পলিন দেশ ছেড়ে চলে গেলে মো. হাফেজ কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তিনি এলাকায় ফিরে এসে পুনরায় সক্রিয় হন।
অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত পলিনের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে হাফেজ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়দের আরও দাবি, ওই অর্থের সহায়তায় মো. হাফেজ "হকার্স দল" নামে একটি সংগঠনের সভাপতি হন। পাশাপাশি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার সহযোগিতায় তিনি অস্ত্রধারী ক্যাডারদের নিয়ে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার, সারুলিয়া, রানীমহলসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে তার অনুসারীরা জড়িত। এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন সময় ঝটিকা মিছিলের আয়োজনেও হাফেজের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এলাকাবাসী অবিলম্বে মো. হাফেজের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মো. হাফেজের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ফোনটি বন্ধ করে দেন। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।