মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক গৃহবধূকে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, অর্থ আদায় এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত পর্নোগ্রাফি মামলার একমাত্র পলাতক আসামি শাহিন আলীকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯।
গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানাধীন ইসলামপুর এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত শাহিন আলী শ্রীমঙ্গলের জালালীয়া রোড এলাকার মোঃ শুকুর আলীর ছেলে।
জুতা বদলাতে গিয়ে যেভাবে পাতা হলো ফাঁদ
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ভিকটিম নারী এবং অভিযুক্ত শাহিন মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা। শাহিন তার ভাড়া বাসায় নারীদের বিভিন্ন প্রসাধনী ও জুতা-কাপড় বিক্রি করতেন, যার ফলে ভিকটিম প্রায়ই সেখানে কেনাকাটা করতে যেতেন।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভিকটিম শাহিনের কাছ থেকে এক জোড়া জুতা কেনেন। জুতাটি পায়ে ছোট হওয়ায় সেটি পরিবর্তন করতে তিনি পুনরায় শাহিনের বাসায় যান। সেই সময় বাসায় কোনো লোক না থাকার সুযোগে শাহিন মিয়া ভিকটিমকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে এবং গোপনে মোবাইলে তার ভিডিও ধারণ করে।
মানসম্মানের ভয়ে গোপন, অতঃপর ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভিডিওটি ধারণ করার পর থেকেই শাহিন ভিকটিমকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সে দীর্ঘদিন ভিকটিমকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করে। নিজের সংসার ও সামাজিক সম্মান বাঁচাতে ভিকটিম দীর্ঘদিন এই চরম লাঞ্ছনা মুখ বুজে সহ্য করেন।
একপর্যায়ে ভিকটিম ভিডিওটি ডিলিট করার জন্য অনুরোধ করলে শাহিন উল্টো ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। নিরুপায় হয়ে ভিকটিম তাকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করলেও বাকি টাকা দিতে না পারায় শাহিন সেই আপত্তিকর ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়।
যেভাবে গ্রেফতার হলো অপরাধী
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভিকটিম বাদী হয়ে গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে শ্রীমঙ্গল থানায় ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই শাহিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
ঘটনাটি জানতে পেরে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। অবশেষে গতকাল সোমবার শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের (সিপিসি-২) একটি চৌকস আভিযানিক দল ইসলামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান ও একমাত্র আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব।