কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের বটতলী ডাংহাট বাজারে রাস্তার জায়গা দখল কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার ১৪ই জুলাই ২০২৬ইং তারিখে দুপুর ২:৩০ঘটিকায় উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের বটতলী ডাংহাট বাজারে আব্দুল সাত্তার মাস্টারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম জিনাত (৪৫) একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে লিমন (১৮)এর হাতে থাকা সাব্বলের আঘাতে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বটতলী এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন রাজারহাট উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,উমরমজিদ ইউনিয়নের বটতলী ডাংহাট এলাকার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো।দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকা রাস্তাটি সম্প্রতি রাজারহাট উপজেলার(সহকারী কমিশনার-ভূমি) সামিউল ইসলামের হস্তক্ষেপে ও সহযোগিতায় রাস্তাটি পুনরায় সচল করা হয়।
স্থানীয়রা তার এই পদক্ষেপে আশ্বস্ত হয়েছিলো।
কিন্তু উক্ত রাস্তারটি দখল কে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুর ২:৩০ টায় উভয় পক্ষই পুনরায় রাস্তা দখলের চেষ্টা চালায়।রাস্তা দখল করতে আসা উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় প্রতিপক্ষ জয়নাল আবেদীনের ছেলে লিমন (১৮)এর সাব্বলের আঘাতে ঘটনা স্থলে মারা যান জাহিদুল ইসলাম জিনাত(৪৫)নামের এক ব্যক্তি।জাহিদুল ইসলাম জিনাত বটতলী ডাংহাট গ্রামের আব্দুল সাত্তার মাস্টারের ছেলে।
জিনাতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে উত্তেজনাকর পরিবেশের তৈরি হয়।
এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম (ইউএনও) ও রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনা স্থলে যান।
রাজারহাট থানা পুলিশ তৎক্ষণাৎ ১০জন কে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসেন।উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা আর যাতে না ঘটে এজন্য বটতলী এলাকায় ১৪৪ দ্বারা জারি করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম জানান,আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নতুন করে সহিংসতা এড়াতে বটতলী এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং এই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
বর্তমানে রাজমাল্লী ও বটতলী এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এই লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি,
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।