রতিরামপুর বানিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সততা স্টোর’ ও ‘সঞ্চয় ব্যাংক’ উদ্বোধন

আসাদুজ্জামান টিটু, রংপুর:

Date: বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬
news-banner
শিক্ষার্থীদের সততা, নৈতিকতা ও সঞ্চয়ের অভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করতে রংপুর সদর উপজেলার ২ নং হরিদেবপুর ইউনিয়নের রতিরামপুর বানিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ ১৫ জুলাই (বুধবার) বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের ‘সততা স্টোর’ ও বিশেষ ‘সঞ্চয় ব্যাংক’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এর কিছুদিন আগেই বিদ্যালয়টিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দেশীয় ফলের সাথে পরিচিত করতে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে একটি 'গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব'-এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের মানবিক ও মানসিক বিকাশে এবার এই নতুন কার্যক্রমের সূচনা হলো।
এই সততা স্টোরে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় খাতা, কলম ও শিক্ষণীয় গল্পের বই বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রয় করা হচ্ছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজারে ৫ টাকা মূল্যের একটি কলম এই স্টোরে মাত্র ৪ টাকায় এবং ১০ টাকার খাতা মাত্র ৭ টাকায় কিনতে পারছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষণীয় গল্পের বইও এখানে বাজারের চেয়ে কম মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্টোর উদ্বোধনের পাশাপাশি আজ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে একটি করে সঞ্চয় ব্যাংক বিতরণ করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সঞ্চয়ী মনোভাব গড়ে তোলা। আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া উপহারের টাকা থেকে অর্ধেক খরচ করে বাকি অর্ধেক যেন তারা এই ব্যাংকে জমা রাখতে পারে, সেই লক্ষ্যে এই উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজেই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন; তিনি উদ্বোধনী দিনে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ব্যাংকে নিজের পক্ষ থেকে ৫ টাকা করে উপহার দিয়ে তাদের সঞ্চয় শুরু করিয়ে দেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা ও সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি করা। তারা যেন ছোটবেলা থেকেই টাকার সঠিক ব্যবহার শেখে। আজ আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি করে সঞ্চয় ব্যাংক দিয়েছি এবং আমি নিজে তাদের ব্যাংকে ৫ টাকা করে দিয়ে সঞ্চয়ের খাতা খুলে দিয়েছি। বছর শেষে এই জমানো টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই তাদের স্কুল ড্রেস ও জুতো কিনতে পারবে। এতে করে বছরের শুরুতে অভিভাবকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ কমবে এবং তারা অনেকটাই স্বস্তি পাবেন।"
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা: পারভীন, মোছা: সাজু মিয়া, মোছা: রফিকুর নাহার, মো: জাহিদ আলম, মোছা: তারজিনা এবং মোছা: আরজিনা। উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবক মহল বিদ্যালয়ের এমন সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

Leave Your Comments