রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় অতি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের মাঝে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকার (ZFA) উদ্যোগে চাল ও ভোজ্যতেল বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নির্বাচিত অতি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে এ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। সোমবার (৩ আগস্ট) গঙ্গাচড়া উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে সরাসরি বক্তব্য দেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মো. নায়েবুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকা-বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. এনামুল হক।
অনুষ্ঠানে গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকার বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের কর্মকর্তারা এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংস্থাটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার মুহাম্মদ আজিম উদ্দিন, প্রজেক্ট অফিসার মো. ফয়সাল মন্ডল, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার আব্দুর রাজ্জাক ও মো. নাঈম জমাদ্দারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকার বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মুহাম্মদ আজিম উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি উপস্থিত অতিথি ও উপকারভোগীদের শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশে জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকার চলমান মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন।
কর্মসূচির আওতায় গঙ্গাচড়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নির্বাচিত অতি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের প্রত্যেককে ৬০ কেজি চাল ও ৫ লিটার ভোজ্যতেল দেওয়া হয়। খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়। তাঁরা বলেন, সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে একসঙ্গে পাওয়া এই খাদ্য সহায়তা তাঁদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
একজন উপকারভোগী লামিয়া বেগম বলেন, আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য চাল ও তেলের এই সহায়তা অনেক উপকারে আসবে। সংসারের খরচ চালাতে অনেক কষ্ট হয়। এই খাদ্যসামগ্রী পাওয়ায় কিছুদিনের জন্য হলেও পরিবারের খাবারের চিন্তা কমবে। আরেক উপকারভোগী মোতালেব হোসেন বলেন, অভাবের সংসারে বাজার থেকে সবকিছু কিনে খাওয়া কঠিন। এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমরা চাই, ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের জন্য এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকুক।
বিশেষ অতিথি মো. নায়েবুজ্জামান বলেন, সমাজের অতি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত মহৎ কাজ। জাকাত ও মানবিক সহায়তা সঠিকভাবে দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে সমাজের বৈষম্য কমানো সম্ভব। গঙ্গাচড়ার অসহায় পরিবারগুলোর জন্য জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকা-বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. এনামুল হক বলেন, জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দরিদ্র, অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।তিনি বলেন, বাংলাদেশেও খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকায়ন, পানি ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি। প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যতেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অনলাইনে সরাসরি বক্তব্যে সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, অতি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক দায়িত্বও। গঙ্গাচড়ার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকার খাদ্য সহায়তার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলো সাময়িকভাবে খাদ্য সংকট থেকে স্বস্তি পাবে। মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।