রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে কথিত ভুয়া পরিচয়পত্রে বিয়ে করার অভিযোগে মো. লিওন মিয়াকে আটক করেছে গঙ্গাচড়া থানা পুলিশ।এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে।
ঘটনাটি নোহালী ইউনিয়নের মধ্য কচুয়া এলাকায়। লিওন মিয়া আলমবিদিতর ইউনিয়নের সয়রাবাড়ি ফুলবাড়িচওড়া এলাকার সাফুল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লিওন নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নোহালী ইউনিয়নের মধ্য কচুয়া এলাকার মোকাররম হোসেনের মেয়ে মাহফুজা আক্তার রিয়া মনিকে বিয়ে করেন। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ায় মেয়ের পরিবার তার পরিচয় বিশ্বাস করে বিয়েতে সম্মতি দেয় বলে জানা গেছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় , লিওনের ব্যবহৃত কথিত এনএসআই পরিচয়পত্রে নাম লেখা রয়েছে সম্রাট হোসাইন শামীম ( ‘SOMRAT HOSSAIN SAMIM) সেখানে পদবি হিসেবে ‘Junior Field Officer’ উল্লেখ রয়েছে। পরিচয়পত্রে এনএসআইয়ের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। ইস্যুর তারিখ হিসেবে ৮ জুলাই ২০২১ উল্লেখ রয়েছে।তার ব্যবহৃত পরিচয়পত্রে নাম ‘সম্রাট হোসাইন সামিম’ এবং পদবি ‘জুনিয়র ফিল্ড অফিসার’ উল্লেখ করা হলেও পুলিশের নথিতে তার প্রকৃত নাম মো. লিওন মিয়া। পরিচয় গোপন করে বিয়ের বিষয়টিও লিওন স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে তিনি নিজের পরিচয় গোপন ও ভিন্ন পরিচয়ে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করেছেন।
এ ছাড়া প্রতিবেদকের হাতে থাকা একটি কথিত এনএসআই-সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামাতেও ‘সম্রাট হোসেন সামিম’ নামটি রয়েছে। সেখানে এনএসআইয়ে চাকরিরত থাকার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লিওন মিয়ার সঙ্গে এ প্রতিনিধির সাথে কথা হলে তিনি বলেন,পরিচয় গোপন করে মাহফুজা আক্তার রিয়া মনিকে বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং এটিকে অন্যায় হয়েছে বলে জানান।
মামলার বাদী মোকাররম হোসেন বলেন, লিওন মিয়া নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছে। সে ‘সম্রাট হোসাইন সামিম’ নামে একটি পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজেকে এনএসআইয়ের জুনিয়র ফিল্ড অফিসার হিসেবে পরিচয় দেয়। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ায় আমরা তার পরিচয় বিশ্বাস করে মেয়ের বিয়ে দিই। পরে তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে খোঁজ নিয়ে প্রকৃত তথ্য জানতে পারি। সে ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে লিওনের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছি।
স্থানীয় মারুফ মিয়া বলেন, লিওন নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ায় মোকাররম হোসেন তার জামাইকে নিয়ে গর্ব করতেন। পরে জানা যায়, লিওনের এর আগেও বিয়ে হয়েছিল এবং আগের সংসারে তার সন্তান রয়েছে। প্রথম স্ত্রী সন্তানসহ মোকাররম হোসেনের বাড়িতে আসার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই লিওনের পরিচয়, চাকরি ও আগের সংসার নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় কামাল মিয়া বলেন, লিওন আগে বিয়ে করেছে এবং তার সন্তান রয়েছে এ বিষয়টি মোকাররম হোসেনের মেয়ের বিয়ের পর প্রকাশ্যে আসে। প্রথম স্ত্রী সন্তানসহ মোকাররম হোসেনের বাড়িতে আসার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
লিওনের বিরুদ্ধে শুধু এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয়ে বিয়ের অভিযোগই নয়, আরও কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি একটি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল ও বিক্রির চেষ্টা করেছেন। এ ছাড়া প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নিজের পরিচয় ও প্রভাবের বিষয়টি কাজে লাগিয়ে লিওন বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং নানা ধরনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতেন।
এ ঘটনায় গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা হয়েছে। গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর বলেন, এ সংক্রান্তে গঙ্গাচড়া মডেল থানার মামলা নম্বর-২২, তারিখ ১৯/৮/২০২৬ খ্রি. দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৭০/১৭১/৪২০/৪০৬ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।