সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ১নং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে "দবিরগঞ্জ ইউনিয়ন" নামকরণ করার দাবিতে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নওজেশ আলী নায়েব এর সভাপতিত্বে পরিষদ চত্বরে এ গণশুনানি ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-প্রচার সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা খন্দকার তৌহিদুর রহমান,আগ্রাসন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি গোলাম আযম,খ,ম,তামিনুর রহমান, হারুন অর রশিদ,আব্দুল আজিজ আকন্দ, আফজাল হোসেন, আব্দুল মালেক, মহসিন,রবিউল মন্ডল ও আব্দুল গফুরসহ
দলমত নির্বিশেষে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেনি পেশার হাজার হাজার মানুষ গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করে এর স্বপক্ষে মতামত পেশ ও উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন।
গণশুনানি ও গণস্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে জানাযায়, উল্লাপাড়া উপজেলার অন্তর্গত ১নং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন। দীর্ঘদিন যাবৎ ইউনিয়নটি “রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন” নামে পরিচিত হয়ে আসছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায়, স্থানীয় ইতিহাস, জনসাধারণের সুবিধা এবং প্রশাসনিক পরিচিতির বিষয় বিবেচনায় ইউনিয়নটির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অত্র এলাকার একজন বিশিষ্ট, শিক্ষিত, পরমহিতৈষী ও সমাজসেবী ব্যক্তি ছিলেন দবির উদ্দিন মিয়া। তিনি স্থানীয় জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপুর্র্ন ভূমিকা পালন করেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের পঞ্চায়েত/চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সামাজিক অবদান ও জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে কারণে তিনি স্থানীয় জনগণের নিকট একজন শ্রদ্ধেয় ও স্মরণীয় ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত।
ঐতিহাসিকভাবে দবিরগঞ্জ গ্রামের পূর্বের নাম ছিল রামকৃষ্ণপুর। পরবর্তীকালে দবির উদ্দিন মিয়ার স্মৃতি ও অবদানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক তিনি ১৯৪৫ সালে মারা যাওয়ার পর উক্ত গ্রামের নাম “দবিরগঞ্জ” করা হয়, যা সেই নামেই প্রায় ৮০ বছর ধরে পরিচিতি লাভ করে আাসছে। বর্তমানে দবিরগঞ্জ নামটি স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ও সর্ব মহলে সুপরিচিত একটি নাম।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ইউনিয়নের নাম “রামকৃষ্ণপুর” হলেও বাস্তবে দবিরগঞ্জ নামেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিচিত। ফলে ইউনিয়নের নাম এবং বাস্তব ভৌগোলিক পরিচিতির মধ্যে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সরকারি ও অন্যান্য সেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যে আগত ব্যক্তিবর্গ “রামকৃষ্ণপুর” নাম অনুসরণ করে প্রকৃত স্থান শনাক্ত করতে অনেক সময় বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির সম্মুখীন হন।
বর্তমানে দবিরগঞ্জ গ্রামে দবিরগঞ্জ নামে একটি পোস্ট অফিস,একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল মাদ্রাসা, একটি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, বিদ্যমান রয়েছে। এছাড়াও ইউপি নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রও রয়েছে । ফলে “দবিরগঞ্জ” নামটি শুধু ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপুর্ন নয়; বর্তমানে সরকারি এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও স্থানীয় পরিচিতির ক্ষেত্রেও নামটি কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উপরন্তু ইউনিয়নের বর্তমান নাম “রামকৃষ্ণপুর” হওয়ায় নতুন প্রজন্মসহ বহিরাগত সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে স্থান শনাক্তকরণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। একটি ইউনিয়নের নাম তার ভৌগোলিক ও জনপরিচিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে সরকারি সেবা প্রদান, যোগাযোগ, ডাকযোগাযোগ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সাধারণ জনগণের চলাচল অধিকতর সহজ ও সুশৃঙ্খল হয়।
এমতাবস্থায়,স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, এলাকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জনস্বার্থ, প্রশাসনিক সুবিধা এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী দবির উদ্দিন মিয়ার স্মৃতি সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে “দবিরগঞ্জ ইউনিয়ন” নামকরণ করা সমীচীন ও জনকল্যাণকর বলে প্রতীয়মান হয়। উল্লেখ্য যে, ১৯৪৬ সাল থেকে অত্র ইউনিয়নে রামকৃষ্ণপুর নামে কোন গ্রাম নাই।
উপরোক্ত ঔতিহাসিক পটভুমি ও যুক্তিসমুহের প্রেক্ষিতে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে "দবিরগঞ্জ ইউনিয়ন" নামকরনের জন্য দলমত নির্বিশেষে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।