উলশী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বপন কুমার রায় খুলনা ব্যুরো প্রধানঃ

Date: সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৬
news-banner
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে
সরকারের অন্যতম নির্বাচণী অঙ্গীকার বাস্তবাস্ননে
একধাপ এগিয়ে গেল দেশ।সোমবার ২৭ এপ্রিল সকালে যশোর জেলার শর্শা উপজেলারঐতিহাসিক উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ও পানিনিস্কাশন ব্যবস্হার আমুল পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উদ্বোধণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন,উলশী খাল পুনঃখননেন মাধ্যমে এই অঞ্চলের পানি নিস্কাশন ব্যবস্হা উন্নত হবে যা হাজার হাজার একর কৃষি জমিকে জলবদ্ধতা থেকে রক্ষা করবে।এর ফলে স্হানীয় কৃষি উৎপান বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবিচক প্রভাব পড়বে। শহীদরাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক খালের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে উলাশী ও আশপাশের অঞ্চলে জলাবদ্ধতা একটি দীর্ঘস্থায়ী অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। খাল খনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে প্রায় ৩০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হবে।
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা শোনেন। তিনি আশ্বাস দেন যে, বর্তমান সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষি খাতের উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করে যাবে।
আজ সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে শার্শা যাওয়ার পথে রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান।
শার্শার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী যশোর সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেবেন। এরপর বিকেলে তিনি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। একে যশোরবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি বড় উপহার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরের শেষ পর্যায়ে বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন এবং প্রতিকীভাবে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খননকাজের সূচনা করেন। পাশাপাশি তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নারীদের জন্য এলপিজি গ্যাস কার্ড প্রদান, ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা বিনামূল্যে করা, উলশী খালের ওপর নতুন সেতু নির্মাণ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ও দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য আজীজুর রহমান। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সহস্রধিক জনসমাগম উপস্থিত ছিলেন।
 জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো যশোর জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। জনসভা শেষে আজ সন্ধ্যায় যশোর বিমানবন্দর থেকেই ঢাকার উদ্দেশ্যে আকাশপথে প্রধানমন্ত্রীর রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

Leave Your Comments