আগের চেয়ে বিদ্যুৎ বিল বেশি দিতে হচ্ছে!দিশেহারা গ্রাহক!
শরণখোলায় বিদ্যুৎ থাকেঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং এ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইতোপূর্বে সরকার বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে এবং বাংলাদেশের সকল সহর বন্দর গ্রাম গঞ্জে,জেলা উপজেলায় সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত সকল শপিং মল, ছোট বড় কলকারখানা এবং সকল দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। সরকারের দেয়া নির্দেশনা মেনে সকল শপিং মল,কলকারখানা,দোকান সন্ধ্যা সাতটার পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও লোডশেডিং এর মাত্রা একটুও কমেনি বরং আগের চেয়ে বেড়েছে। বার বার লোডশেডিং এর কারনে বিদ্যুৎ না পেয়েও বিল বেশি গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
শরণখোলায় প্রতিদিন প্রতিনিয়ত দিন রাতে ২৫/৩০ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। মাঝে মধ্যে আসলেও তা ১০/১৫ মিনিটের জন্য স্থায়ী থাকে। এতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে স্কুল, কলেজ,প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কিন্ডারগার্টেনের শিশু শিক্ষর্থীরা।বিদ্যুৎ না থাকার কারনে তাদের ক্লাস করতে যেমন কষ্ট হয় তেমনি পড়াশোনায়ও পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
তীব্র তাপপ্রবাহে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে।তেমনি শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ সকলেই বিদ্যুৎ না থাকার কারনে গরমে হাসফাস করছে।এছাড়াও ফ্রিজ ব্যাবহারকারী ছোট বড় ব্যবসায়ীদের দোকানের ঠান্ডা জাতীয় খাবার নষ্ট হচ্ছে। এতে ব্যাবসায়ীরা চরম লোকসানের শিকার হচ্ছে। শরণখোলা উপজেলার একাধিক ব্যবসায়ী সাংবাদিকদের জানান দিনে ২৫/৩০ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। যদিও আসে তা ১০/১৫ মিনিটের জন্য। কিন্তু বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় বেশি গুনতে হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ ব্যাবহারকারী অনেক বাড়ির মালিকদের অভিযোগ এতো লোডশেডিং এর পরেও আমাদের বিদ্যুৎ বিল কমে না। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে বিদ্যুতে ভোল্টেজ কম থাকার কারনে ফ্যান ঠিক মতো ঘোরে না।বাতি জলে কোনোরকম। এলাকার অনেক মসজিদের মুসল্লীদের অভিযোগ শুক্রবারের জুমার নামাজ সহ প্রত্যেক নামাজের সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এতে নামাজ পড়তেও মুসল্লীদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। প্রত্যন্ত গ্রামে তো সারাদিনে মাত্র ঘন্টা খানেক বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, বাকি সময় গ্রামের মানুষদের অন্ধকারে কাটাতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুতের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী বিদ্যুতের এই তীব্র লোডশেডিং এর মধ্যেও বিল বেশি হওয়ার কারণ সম্পর্কে বলেন বিদ্যুৎ যাওয়ার পরে হঠাৎ হঠাৎ আসার কারনে কয়েক মিনিট ভোল্টেজ একটু বেশি থাকে তার কারনেই মিটারে কয়েক ইউনিট বেশি উঠে যায়।। এই কারণেই বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় বেশি গুনতে হয়।
পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং এর বিষয় শরণখোলা সাব জোনাল অফিসের কর্মকর্তা (এজিএম) বলেন এটা আমাদের জাতীয় সমস্যা এবং বিদ্যুতের উৎপাদন কম বিধায় বার বার লোডশেডিং এর সম্মুখীন হচ্ছে গ্রাহকেরা। আমরা আশাবাদী যে দুই তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ এর এই লোডশেডিং থেকে শরণখোলা উপজেলার মানুষ মুক্তি পাবে।তিনি আরও বলেন শরণখোলায় মোট ৩৯ হাজার গ্রাহক এদের বিদ্যুতের চাহিদা সম্পুর্ন ভাবে মিটাতে ১৩ মেঘ ওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন আমরা পাচ্ছি মাত্র ৬ মেঘওয়াট এতে বিদ্যুৎ সাপ্লাই ঠিক মতো হচ্ছে না তবে অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
শরণখোলা উপজেলায় বিদ্যুৎ এর অসহনীয় লোডশেডিং এর বিষয় বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (জিএম) বলেন সরকারের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের আরো বিদ্যুৎ ব্যাবহারে মিতব্যয়ী হতে হবে, তাহলেই ভবিষ্যতে লোডশেডিং থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোডশেডিং এর বিষয় শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেল্লাল হোসেন মিলন গণমাধ্যম কে জানান এটা একটা জাতীয় সমস্যা আশাকরি দুই তিন মাসের মধ্যেই আমাদের বিদ্যুতের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিব্র তাপদাহে প্রতিনিয়ত ২৫/৩০ বার বিদ্যুৎ আসাযাওয়া করে তবে বিদ্যুতের লোডশেডিং সহ বিদ্যুৎ কেন্দ্রীক সকল বিষয় শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদ হাসান বলেন বিদ্যুতের এই লোডশেডিং এটি একটি জাতীয় সমস্যা, তবে এ সমস্যার সমাধান এবং বিদ্যুতে সমস্যা অতি শীগ্রই লাঘব হবে। বিদ্যুতের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। যাতে শরণখোলা উপজেলায় একটি সাব স্টেশন করা যায়। সাব স্টেশন করলে বিদ্যুতের লোডশেডিং কমে আসবে।এছাড়াও মোংলা গ্রীড থেকে শরণখোলা পর্যন্ত যাতে বিদ্যুৎ আসে তার জন্য কাজ চলমান রয়েছে এবং মোংলা থেকে জিউধারা পর্যন্ত বিদ্যুতের পোস্ট বসানো হয়েছে, আগামী দুই তিন মাসের মধ্যে আমরা এর সুফল পেতে শুরু করবো।।শরণখোলা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা এই উপজেলায় বিদ্যুতের একটি সাব স্টেশন করা অতিব জরুরী বলে তিনি মনে করেন।