ময়মনসিংহে ঐতিহাসিক"ধরার খাল"পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ

Date: শনিবার, মে ২৩, ২০২৬
news-banner
ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা ঐতিহাসিক"ধরার খাল"পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
২৩ মে-২০২৬ ইং তারিখ রোজ শনিবার দুপুর প্রায় সোয়া ২ ঘটিকার দিকে উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের কানহর এলাকায় পৌঁছে তিনি এ উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালটি নাব্যতা হারিয়ে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে পানির সংকটের কারণে এলাকার মানুষ পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে খালটি পুনরায় খননের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৪৭ বছর আগে এলাকার কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে"ধরার খাল"খনন করেছিলেন। সময়ের ব্যবধানে খালটি ভরাট হয়ে পড়লে কৃষি উৎপাদন, মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার হাজারো কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালের দরিরামপুর নজরুল একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩,২৪ ও ২৫ মে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসব উদযাপন করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরুলের আদর্শ, সাম্য ও মানবতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সরকার নানা সাংস্কৃতিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, খাল পুনঃখনন ও কৃষিবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী প্রথম ত্রিশাল সফরকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলাজুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ, র‍্যাব ও এসএসএফ সদস্যদের তৎপর উপস্থিতিতে ত্রিশাল কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলজুড়ে বসানো হয় চেকপোস্ট এবং নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ত্রিশালজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কজুড়ে টানানো হয় ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। দরিরামপুর নজরুল একাডেমি প্রাঙ্গণের এক পাশে নির্মাণ করা হয় বিশাল প্যান্ডেল, অন্য পাশে বসে নজরুল মেলা। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঐতিহাসিক"ধরার খাল"পুনঃখনন এবং নজরুল জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ময়মনসিংহ অঞ্চলের উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সরকারের গুরুত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

Leave Your Comments