দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির ১০ বছর বয়সি এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আপোষ রফার মধ্যদিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শনিবার (২৩ মে) বিকেল ৫টায় অভিযুক্তসহ আপোষকারীদের বিচার দাবীতে ফুলবাড়ী থানার সামনে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা।
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। ওইদিন রাতেই পৌর শহরের কাঁটাবাড়ী গ্রামে স্থানীয়দের সহায়তায় এই আপোষ রফার মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এদিকে ঘটনারপর আপোস রফার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এরই প্রতিবাদে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী শিহাব হোসাইন, কাঁটাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রাজিন হক, আব্দুল্লাহ আল আরাফাত, হাবিব আহমেদ, সাজ্জাদ হোসেন সাজু, সাকিব হোসেন, আরভি অয়ন, মিশোর, নাফিউল, স্বাধীন, মোরসালিন, লাবীব। তারা দ্রুত অভিযুক্তসহ আপোসকারীদের আইনের এনে শাস্তির জোর দাবী জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দেয়া ভিডিও সাক্ষাতকার ও স্থানীয়সুত্রে জানাগেছে, মঙ্গলবার ( ১৯ মে) সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পৌর শহরের কাঁটাবাড়ী গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী সাগির আলী (৭৫) এর বাড়ীর পাশ দিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় তাকে কৌশলে ফুসলিয়ে হাত ধরে বাড়ীর ভেতরে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে সাগির আলীর বিরুদ্ধে। এ সময় শিশুটি কোন রকমে দরজা খুলে জোর করে পালিয়ে স্কুলে চলে যায়। পরে শিশুটি স্কুল থেকে বাড়ীতে গিয়ে খাওয়া দাওয়া না করে ঝিমিয়ে থাকলে তার মানষিক দিক লক্ষ করে পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে পরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি সবকিছু খুলে বলে। ঘটনার পর ওইদিন রাতেই স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে আপোস রফার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ভুক্তভুগির পরিবারের লোকজন বলছে পরামর্শক্রমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। অভিযুক্তের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, ঘটনা জানার সাথে সাথে ভুক্তভুগির বাড়ীতে পুলিশ পাঠানো হয় এবং তার স্টেটেটম্যান্ট নেয়া হয়েছে। এখোনো পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়া হয় হয়নি, তবে ভিকটিমের বাবা একজন প্রবাসী তাই তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।