অবশেষে বদলিআলোচিত হয়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান। এতে সস্তির হাওয়া বইছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে। রোববার ২৪ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব আক্তারুন নাহার এর স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোঃ হাসানুজ্জামান কে প্রশাসন ও অর্থ ও উইং থেকে বদলি করে টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে প্দায়ন করা হয়। বদলিকৃত কর্মকর্তা হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানান অভিযোগ ও অনিয়ম এর কারণে কৃষি কর্মকর্তারা আতঙ্কিত হয়ে থাকতো।
হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে গত দশ মাসে প্রায় ৩০০ টি বদলি বাণিজ্য এবং আওয়ামী কর্মকর্তাদের পদে টিকিয়ে রাখা র বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ। গত দশ মাসে প্রায় তিনি ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে খামার বাড়ির অধিকাংশ কর্মকর্তা জানান।
জানা যায়, হাসানুজ্জামান অফিস রুমে বেশিরভাগ সময় মদ পান করতেন। সন্ধ্যার পর তার মদ্যপনের মাত্রা অত্যাধিক বেড়ে যেতো। মধ্যপ অবস্থায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে তিনি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট মেম্বার জনিকে কোন কারণ ছাড়াই মারধর করেন। এতে নবীন নামে একজন কৃষিবিদ বাধা প্রদান করলে তিনি তাকেও মারধর করেন। আর এই ঘটনাটি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে সকলেরই জানা। এছাড়াও তিনি মদ্যপ অবস্থায় বেশ কয়েকদিন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে সিনক্রিয়েট করেন।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একাধিক নারী কর্মকর্তারা জানান, কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান অনেক সময় রাতে তাদেরকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করতেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর হতে তিনি প্রায় তিন শতাধিক কর্মকর্তাদের কোন কারণ ছাড়াই বদলি করেছেন এবং প্রত্যেকটি বদলির পিছনে তার আর্থিক লেনদেন রয়েছে বলে প্রতিবেদকের হাতে প্রমাণ এসেছে।
আরো জানা যায়, এই কর্মকর্তা ধানমন্ডির একটি বাড়িতে প্রায় এক লক্ষ টাকা দিয়ে ভাড়া থাকেন। তিনি তার প্রশাসনিক কিছু বন্ধুদেরকে দিয়ে তিনি বিভিন্নজনকে হুমকি দিয়ে থাকেন। এছাড়া তিনি কয়েকটি টেন্ডার কমিটির সদস্য এবং সভাপতি থাকাবস্থায় প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। টাকা ছাড়া তিনি কোন বদলি করেন না বলে বেশ কয়েকজন কৃষিবিদ অভিযোগ করেন। টাকার বিনিময়ে তিনি আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ভালো ভালো জায়গায় বসিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।শুধু তাই নয় তিনি যেসব উপজেলায় বেশি প্রজেক্ট রয়েছে সেখান থেকে মাসিক ১ লক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা আদায় করেন বলে জানা গেছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে, চট্টগ্রামের পদায়ন থাকাকালীন সময়ে সেখানে তার ভাই ওসি কামরুজ্জামানের সহায়তায় মাদক ব্যবসা করতেন। তার ভাই ওসি কামরুজ্জামান এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি সাইফুল ইসলাম সাইফ ছাত্রদল নেতা মামলা করেছেন।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, হাসানুজ্জামানের ভাই তৎকালীন আওয়ামী সরকারের চট্টগ্রামের বাইজিদ থানার ওসি কামরুজ্জামান ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম সাইফকে তুলে নিয়ে এসে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপরাধ হয় তার পা এ দুটো গুলি করেন। পরবর্তীতে সাইফকে পা কেটে ফেলতে হয়। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সাইফুল ইসলাম ইতিমধ্যে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ করে বলেন, হাসানুজ্জামান ও তার ভাই কামরুজ্জামানের বিষয়ে কৃষিবিদ অনেকের কাছে এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ দেন। সেই সাথে এই দুই ভাইয়ের বিচার দাবি করেন তিনি। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজকে প্রাথমিকভাবে হাসানুজ্জামানকে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে আলোচিত হয়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা হাসানুজ্জামানের বদলি হওয়ায় একাধিক নারী কর্মকর্তাসহ অনেক কৃষিবিদ এই দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার বদলিতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।