রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বাগপুর মাছুম আলী প্রামানিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ রাহেনা খাতুনের বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ আদায়, প্রতিশ্রুত চাকরি না দেওয়া এবং টাকা ফেরত চাইলে হুমকি প্রদানের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের চোত্তাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রাশেদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাগপুর মাছুম আলী প্রামানিক উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী পদে চাকরি পাওয়ার আশ্বাসে প্রধান শিক্ষিকা রাহেনা খাতুনকে নগদ ২ লাখ টাকা প্রদান করেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে টাকা নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরবর্তীতে তিনি টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। বরং বর্তমানে টাকা দাবি করলে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরির নামে অর্থ গ্রহণ এবং পরে টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত একাধিক ফোনালাপের অডিও রেকর্ড তার কাছে রয়েছে। প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটির কাছে সেসব প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ রাহেনা খাতুনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোঃ আরিফ মাহফুজ বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি এখনও আমার জানা নেই।”
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাহেনা খাতুন এর আগেও বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন। এর মধ্যেই চাকরির নামে অর্থ গ্রহণের নতুন অভিযোগ উঠায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর অর্থ ফেরত ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।