গঙ্গাচড়ায় সওজ এর নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগ,এলাকা বাসীর ক্ষোভ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

Date: শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬
news-banner
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের কিশামত শেরপুর এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতায় প্রায় ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হতে না হতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে উঠে যেতে শুরু করেছে কারপেটিং । কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও ফাটল, আবার কোথাও হাতের সামান্য ঘষাতেই উঠে আসছে পিচ ও খোয়া। সরকারি অর্থে নির্মিত নতুন সড়কের এমন বেহাল চিত্রে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তারা নির্মাণকাজের মান, তদারকি এবং কাজ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও বিটুমিন ও পাথরের স্তর আলগা হয়ে পড়েছে, আবার কোথাও সড়কের পাশের মাটিসহ কার্পেটিং ধসে গেছে। সড়কের দুই পাশের এজিংয়ের ইট মূল কার্পেটিংয়ের চেয়ে উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি সহজে নিষ্কাশন না হয়ে মাঝখানে জমে থাকার চিহ্নও দেখা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পানি জমে থাকায় নতুন কার্পেটিং দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। তাদের দাবি, নিয়ম বহির্ভূত নির্মাণকাজ করায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সওজের পর্যায়বৃত্ত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি (পিএমপি)-এর আওতায় প্রায় ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৬০০ বর্গমিটার এলাকায় কার্পেটিংয়ের কাজ বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোসাইন ট্রেডার্স অ্যান্ড কর্পোরেশন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিন ও রাতের বেলায় তদারকি কম থাকার সুযোগে দ্রুত কাজ শেষ করা হয়। নির্মাণে প্রয়োজনীয় মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না করায় কাজ শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, "সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ করে যে রাস্তা করা হয়েছে, সেটি ১৫ দিনও টিকল না। হাত দিয়ে ঘষলেই পিচ উঠে আসে। এমন কাজ আমরা আগে কখনো দেখিনি। যারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। 
 আব্দুল কাদের বলেন, "রাস্তার দুই পাশে ইট এত উঁচু করে বসানো হয়েছে যে পানি সহজে নামতে পারছে না। বৃষ্টির পানি মাঝখানে জমে নতুন রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে এটি ভুলভাবে করা হয়েছে। তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কীভাবে এই কাজ গ্রহণ করলেন?"
বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাইমিনুল ইসলাম মারুফ বলেন, "আমি ঠিকাদারকে একাধিকবার ভালোভাবে কাজ করার জন্য বলেছি। কিন্তু তিনি আমার কথায় গুরুত্ব দেয়নি। 

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোসাইন ট্রেডার্স অ্যান্ড কর্পোরেশন-এর ঠিকাদার রেদওয়ান ইকবাল বলেন, "অতি বৃষ্টির কারণে এ সমস্যা হয়েছে।"

রংপুর সওজের উপ-প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজম বলেন, "বৃষ্টির কারণে তাড়াহুড়ো করে কাজ করায় এমন অবস্থা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় সংস্কার করা হবে।"

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, বৃষ্টির কারণে যদি কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব না হয়, তাহলে কেন কাজ চালিয়ে যাওয়া হলো? আর প্রকৌশলগত মান যাচাই না করেই কীভাবে কাজ গ্রহণ করা হলো?

রংপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, "এজিংয়ের ইট মূল কার্পেটিংয়ের নিচে থাকার কথা, যাতে বৃষ্টির পানি সহজে নিষ্কাশন হতে পারে। এখানে ইট উঁচু থাকায় পানি মাঝখানে জমে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি প্রকৌশলগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কের এমন বেহাল চিত্র স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের দাবি, নির্মাণকাজ, তদারকি এবং কাজ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী পুনর্নির্মাণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave Your Comments