বিশ্ব বাঘ দিবসে বাগেরহাটের শরণখোলায় শোভাযাত্রা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভাসহ পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (২৯জুলাই) বন বিভাগের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকাল ১০টায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ অফিস মিলনায়তনে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর আগে রেঞ্জ অফিস সংলগ্ন শরণখোলা বাজারে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বনজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী, পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
শোভাযাত্রা শেষে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সুন্দরবন ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণ বিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবিতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বাঘের আবাসস্থলসহ ফুটিয়ে তোলা হয় নানা বিষয়।
দুপুরে রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন পাথরঘাটার জ্ঞানপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম কামরুল ইসলাম, আইইউসিএন’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুলতান আহমেদ, সাংবাদিক এস এস শোহান, শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ওয়াইল্ড টিমের সদস্য আলম হাওলাদার, চরদোয়ানি বন্যপ্রাণী সুরক্ষা কমিটির সদস্য মো. মিজানুর রহমান, সিপিজি সদস্য আবুল আসলাম তুহিন বয়াতী, ভিটিআরটি সদস্য জাকারিয়া হোসাইন প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার শুধু সুন্দরবনের নয়, এটি বাংলাদেশের গর্ব এবং বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্যের এক অন্যতম প্রতীক। সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বাঘের। তাই বাঘ ও তার আবাসস্থল রক্ষায় বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের মাঝে আরো বেশি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করারও আহবান জানান বক্তারা।
আলোচনা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।