রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড পীরজাবাদ যুগিপাড়া প্রবেশমুখে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে চরম জলাবদ্ধতা। সড়কের দু'পাশে গড়ে ওঠা আবাসিক বাড়ির কারণে পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ না থাকায় বৃষ্টির পানি রাস্তায় জমে থাকছে দীর্ঘক্ষণ। আর এই জমে থাকা পানির কারণেই সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে ছোট-বড় একাধিক গর্ত ও কাদা। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের। যাতায়াতের সময় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পথচারীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ও পশ্চিম যুগিপাড়ায় প্রায় দুই হাজার ভোটারসহ বহু পরিবারের বসবাস। এছাড়া এটি উচ্চগ্রাম ও কুটিপাড়া এলাকার মানুষেরও যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়ক। সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিন বহু মানুষ সহজে সিও বাজার, বেলাল হয়ে ৩ নম্বর এমপি চেকপোস্ট ও ১ নম্বর চেকপোস্ট দিয়ে রংপুর শহরে যাতায়াত করেন। একই সাথে এ সড়ক দিয়ে ঘাঘট পার্ক হয়ে বদরগঞ্জ টার্মিনাল রোডেও সহজে পৌঁছানো সম্ভব হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত অনেক সদস্যও বসবাস করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে বসতি বৃদ্ধি পেলেও বাসাবাড়ির মালিকরা পানি নিষ্কাশনের কোনো সুযোগ না রেখে ভবন নির্মাণ করায় বিপত্তি দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার ওপর পানি আটকে থেকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং এতে পিচ ও মাটি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের তৈরি হচ্ছে। ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কটি একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রংপুর সদর কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান টিটু জানান, "পানি নিষ্কাশনের সুনির্দিষ্ট কোনো পথ না থাকায় এবং পরিকল্পিত ড্রেন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন মহোদয়ের প্রতি বিনীত অনুরোধ, এ এলাকার হাজারো মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে অনতিবিলম্বে পানি জমে থাকা রোধে ড্রেন নির্মাণসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।" এলাকাবাসীর জোর দাবি, সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণ বা টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। দ্রুততম সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।