রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা দিয়েছে হতাশাজনক চিত্র। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ২১-২২ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩ থেকে ১৮ জনে। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীর মোট সংখ্যার চেয়েও কম শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন চিত্র দেখা গেছে একাধিক প্রতিষ্ঠানে।
উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাগপুর মাছুম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৩ জন। বিনবিনা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪০ জনের মধ্যে পাস করেছে ৯ জন। ধামুর পূর্বপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ জন। এছাড়া মনিরাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩১ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৩ জন এবং কোলকোন্দ আব্দুস সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩ জন। লাল চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫২ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৯ জন।
অন্যদিকে ঘাঘটটারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৮ জন। কে জি কুতুব গনেশ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ জনের মধ্যে পাস করেছে ২১ জন এবং উত্তর পানা পুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২২ জন। এর মধ্যে বাগপুর মাছুম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার মাত্র ২৫ শতাংশ। বিনবিনা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ, ধামুর পূর্বপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩০ দশমিক ৫৬ শতাংশ, লাল চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, মনিরাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪১ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং কে জি কুতুব গনেশ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪২ শতাংশ।
উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৩ হাজার ১১৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৭৭৩ জন। উপজেলায় মোট পাসের হার ৫৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
জানা যায়, উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটিতে শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ২১ থেকে ২২ জন রয়েছেন। অথচ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা শিক্ষক-কর্মচারীর মোট সংখ্যার চেয়েও অনেক কম। সবচেয়ে কম পাস করেছে বাগপুর মাছুম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে—মাত্র ৩ জন। এরপর বিনবিনা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ জন এবং ধামুর পূর্বপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ জন। শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি অতিরিক্ত নজরদারি এবং বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না—এমন নানা প্রশ্নও সামনে এসেছে এসব ফলাফলের পর।
অভিভাবকরা বলছেন, একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অবকাঠামো থাকার পরও যদি ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাশিত ফল না আসে, তাহলে ফলাফল পর্যালোচনা করে ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার অর্ধেকেরও নিচে, সেসব বিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পরীক্ষার ফল দিয়ে কোনো বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার মান নির্ধারণ করা যায় না। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার অস্বাভাবিকভাবে কম হলে এর কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা ও তদারকি বাড়ানো জরুরি।
এদিকে গঙ্গাচড়ার সামগ্রিক পাসের হারও ৬০ শতাংশের নিচে থাকায় উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অপরদিকে এবারে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম স্থানে গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। পরীক্ষার্থী ১৪৮ জন, কৃতকার্য ১৩২ জন, পাশের হার ৮৮.৫৯%, জিপিএ-৫ জেনারেল শাখার ২৬ জন। দ্বিতীয় স্থানে গঙ্গাচড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। পরীক্ষার্থী ২২০ জন, কৃতকার্য ১৭৮ জন, পাশের হার ৮০.৯২%, জিপিএ-৫ ১৪ জন। তৃতীয় স্থানে গজঘন্টা স্কুল ও কলেজ। পরীক্ষার্থী ১৯০ জন, কৃতকার্য ১০৪ জন, পাশের হার ৫৪.৭৪%, জিপিএ-৫ ১০ জন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. আরিফ মাহফুজ বলেন, এবারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক নয়।তবে আগামীতে ভালো ফলাফল হবে বলে প্রত্যাশা করছি।