সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা ছাত্রদলের আওতাধীন কিশোরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নবঘোষিত কমিটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। টাকার বিনিময়ে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে বিবাহিত, অছাত্র ও ফ্যাসিষ্টের দোসরদের নিয়ে কমিটি গঠনের প্রতিবাদে খোদ কমিটির শীর্ষ নেতাদের
নবঘোষিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহ গত ১৩ আগষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত আইডিতে এই কমিটির বৈধতা নিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, এই কমিটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী। মাসুম বিল্লাহর এই সাহসী অবস্থান কিশোরগঞ্জের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল সাড়া ফেলেছে।
নবঘোষিত কমিটির সভাপতি সোহেল রানা প্রামাণিক রাসেল যিনি একজন বিবাহিত এবং সন্তানের জনক—যা ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রের চূড়ান্ত লঙ্ঘন। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত করা হয়েছে জোবাইদ ইবনে রুবেলকে, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই বললেই চলে। তৃণমূল কর্মীদের প্রশ্ন—যাদের নিজেদের ছাত্রত্ব বা নূন্যতম শিক্ষা নেই, তারা কীভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও অধিকারের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেবেন?
নবঘোষিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল হাসান রোমিও ফ্যাসিস্টর দোসর পরিবারের সন্তান এবং থাই ও ভিসা প্রতারক চক্রের সাথে জড়িত বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা ত্যাগী কর্মীদের উপেক্ষা করে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা।
পদ বাণিজ্যের নেপথ্যে গোপন আঁতাত তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা কিশোরগঞ্জের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সাথে কোনো সমন্বয় না করে এবং জেলা বিএনপির সুপারিশ উপেক্ষা করে মোটা অংকের ‘পদ বাণিজ্যের’ মাধ্যমে এই কমিটি সাজিয়েছেন। ঢাকার অন্ধকার গলি থেকে অনুমোদিত এই ‘পকেট কমিটি’ ছাত্রদলের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্রোহীরা।
শহীদ জিয়ার হাতে গড়া সংগঠনে অশিক্ষিত, অছাত্র ও ফ্যাসিষ্টের দোসর পরিবারের সন্তানদের কোনো স্থান হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ত্যাগী কর্মীরা। সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মাসুম বিল্লাহর নেতৃত্বে সাধারণ কর্মীরা এখন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং অবিলম্বে নবঘোষিত কমিটি বিলুপ্ত করে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি দাবি জানাচ্ছি।
সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম রাব্বি বলেন,আপনারা ভালোভাবে খোঁজ খবর নেন। যাদের নামে অভিযোগ তোলা হয়েছে তারা দীর্ঘদিন যাবত ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল এবং এখন আছে। নবঘোষিত কমিটির সভাপতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।