সুন্দরবনে অবমুক্তির এক মাস পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসা শেষে বনে ফিরিয়ে দেওয়া সেই বাঘিনীর

নইন আবু নাঈম তালুকদার শরণখোলা থেকেঃ

Date: মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬
news-banner
সুন্দরবনে অবমুক্তির এক মাস পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসা শেষে বনে ফিরিয়ে দেওয়া সেই বাঘিনীর 

কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য ৪০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্যামেরায় বাঘিনীটির ছবি ধরা পড়েনি। তবে এসব ক্যামেরায় এরই মধ্যে তিনটি ভিন্ন বাঘের ছবি পাওয়া গেছে, যেগুলোর কোনোটিই অবমুক্ত করা বাঘিনী নয়।

ফলে বাঘিনীটি কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। সে এখনো জীবিত রয়েছে নাকি বনে ফিরে খাদ্যসংকট কিংবা অন্য কোনো কারণে মারা গেছে—এমন প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি শিকারিদের পাতা ফাঁদে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বাগেরহাটে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে হরিণশিকারিদের পাতা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘিনীটি। দীর্ঘ সময় ফাঁদে আটকে থাকায় তার সামনের বাঁ পায়ে গুরুতর ক্ষত হয় এবং ক্ষতস্থানে পচন ধরে।

পরে বাঘিনীটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে ছয় মাসের বেশি সময় চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর বাঘিনীটি সুস্থ হয়ে ওঠে।

এরপর গত ১২ জুলাই পূর্ব বন বিভাগের আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে তাকে অবমুক্ত করা হয়। অবমুক্তির পর প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় বাঘিনীটির পায়ের ছাপও পাওয়া গিয়েছিল।

বাঘিনীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে প্রথমে আন্ধারমানিক এলাকায় প্রায় আট কিলোমিটারজুড়ে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। পরে শ্যাল নদীর পূর্বপাড় ও জয়মণি এলাকায় আরও ২০টি ক্যামেরা বসানো হয়। কিন্তু এক মাস ধরে পর্যবেক্ষণের পরও কোনো ক্যামেরায় অবমুক্ত বাঘিনীটির ছবি পাওয়া যায়নি।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ক্যামেরায় বাঘিনীর ছবি না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সেটি মারা গেছে। একটি বাঘ সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার এলাকায় বিচরণ করে। বাঘিনীটি হয়তো তার বিচরণ এলাকা পরিবর্তন করে ক্যামেরার আওতার বাইরে চলে গেছে।

তবে দীর্ঘ সময়েও বাঘিনীটির অবস্থান শনাক্ত না হওয়ায় উদ্বেগ রয়েছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ক্যামেরা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। বাঘিনীটির বর্তমান অবস্থান ও পরিণতি নিশ্চিত হতে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Leave Your Comments