রংপুর সদর উপজেলার ১ নং মমিনপুর ইউনিয়নের খারুয়াবাধা কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, শিক্ষার্থীদের সরকারি পুষ্টি সামগ্রী আত্মসাত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কর্মস্থলে অনিয়মিত। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে পরিশোধ না করা এবং চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব মামলার বিপরীতে প্রতি মাসে তাঁকে একাধিক দিন বিজ্ঞ আদালতে হাজিরা দিতে হয়। বিধি অনুযায়ী ছুটি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তিনি তা মানেন না। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে আত্মীয়তার (বিয়াই) সুবাদে কোনো প্রকার লিখিত দরখাস্ত ছাড়াই অনৈতিকভাবে দিনের পর দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সুবিধা নিচ্ছেন অভিযুক্ত এই শিক্ষক। সহকারী শিক্ষকের এমন স্বেচ্ছাচারী আচরণের কারণে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক পাঠদান ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এতে অপর দুই শিক্ষককে অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ সামলাতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাঠদান ও উপস্থিতির বিষয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, "স্যার নিয়মিত স্কুলে আসেন না। আসলেও একটির বেশি ক্লাস নেন না। মন চাইলে যখন-তখন বলেন—'তোমাদের ছুটি', এই বলে চলে যান।" কেবল অনিয়মিত উপস্থিতিয়ই নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার থেকে বরাদ্দকৃত পুষ্টি সামগ্রীর রুটি ও ডিম তিনি নিয়মিত নিজ বাড়িতে নিয়ে যান বলেও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে।গত ৩০ আগষ্ট রবিবার বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে শিক্ষক আব্দুর রহিম অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে চিকিৎসকের কাছে আছেন বলে দাবি করেন। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি কোনো ডাক্তারের কাছে নন, বরং রংপুর আদালতে চেক জালিয়াতি মামলার হাজিরা দিতে অবস্থান করছিলেন। এ বিষয়ে রংপুর সদরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিও) আসাদুজ্জামান জানান, "কোনো মৌখিক বা অনিয়মিত ছুটি দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রধান শিক্ষককে লিখিত আবেদন ছাড়া ছুটি না দিতে আগেই কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।" বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের অপকর্মের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজ।