ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে নুরুল হিকমাহ মডেল মাদ্রাসায় ব্যতিক্রমী বিজ্ঞানমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদ্রাসাটির দুই ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ মেলায় শিক্ষার্থীদের তৈরি অর্ধশতাধিক বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজেক্ট প্রদর্শন করা হয়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শহরের সিঙ্গার গলি, দিনাজপুর রোডের নতুনবাবুপাড়া ও নিমবাগান এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসাটির দুই ক্যাম্পাসে পৃথকভাবে এ বিজ্ঞানমেলার আয়োজন করা হয়। এতে খুদে শিক্ষার্থীরা নিজেদের চিন্তা, মেধা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে তৈরি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মডেল ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে।
মেলায় প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, পরিবেশ, নগর ব্যবস্থাপনা এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানভিত্তিক নানা মডেল স্থান পায়। শিক্ষার্থীদের এসব উদ্ভাবনী প্রকল্প দেখতে শিক্ষক, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটির দুই ক্যাম্পাসে বর্তমানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগ করে দিতেই এ বিজ্ঞানমেলার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাবনা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প তৈরি করে মেলায় উপস্থাপন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার উপদেষ্টা ইসমাইল ইসলাম, পরিচালক আবুল কালাম আজাদ এবং শিক্ষক ও সাংবাদিক সাহবাজ উদ্দিন সবুজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বলেন, “মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতেও নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরতে পারে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি হলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের নানা সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারবে। এ ধরনের আয়োজন তাদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিজ্ঞানমেলার মতো আয়োজনের মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহী করে তোলা সম্ভব।
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষামুখী শিক্ষা নয়, বাস্তবজীবনভিত্তিক জ্ঞান ও সৃজনশীল চিন্তার সঙ্গে পরিচিত করতেই বিজ্ঞানমেলার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বিভিন্ন প্রকল্প তৈরি করে মেলায় উপস্থাপন করেছে।”
তিনি জানান, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে এ ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরে আমন্ত্রিত অতিথিরা বিজ্ঞানমেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন প্রজেক্ট ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। মেলা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।