নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়েছেন দুই শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত ও সাধারণ রোগী। আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের উদ্যোগে এবং দিনাজপুর গাউসুল আযম বিএনএসবি আই হসপিটালের সহযোগিতায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শহরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে চোখ পরীক্ষা শেষে প্রায় ৭০ জন রোগীকে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া চক্ষু বিশেষজ্ঞদের দল দুই শতাধিক রোগীর চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন। একই সঙ্গে রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে চশমা ও জরুরি ওষুধ বিতরণ করা হয়।
গাউসুল আযম বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. তানভির আহমেদের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল দিনভর ক্যাম্পে আগত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।
এর আগে সকালে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন করেন সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আল্লামা সৈয়দ শাহ্ কালিম আশরাফ আশরাফী আল জিলানী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ শাহ্ আহমেদ জামাল আশরাফ আশরাফী আল জিলানী, মাওলানা ইরফান আশরাফী ও আলহাজ্ব গুলজার আহমেদ আশরাফী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা আশরাফী, মাওলানা রাহাত আশরাফী, শামস চুন আশরাফী, নাদিম আশরাফী, ইরফান আশরাফী, সৈয়দ আব্দুল্লাহ পাপ্পু বাখশি, রানা সোনা আশরাফী, তানভীর আশরাফী, তাওহিদ আশরাফী প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী এ চক্ষু ক্যাম্পে শুধু সৈয়দপুর শহর নয়, নীলফামারীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে দূর-দূরান্তের মানুষও চোখের নানা জটিলতা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন।
চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক প্রবীণ ও সাধারণ মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, অর্থাভাব, যাতায়াত সমস্যা ও পারিবারিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা চোখের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। বাড়ির কাছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা, চশমা ও ওষুধ পেয়ে তারা এ আয়োজনকে নিজেদের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।
আঞ্জুমানে গাউসিয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি হাজী মো. তাসলিম আশরাফী জানান, সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও প্রবীণ রোগীদের দোরগোড়ায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আগামীতেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক ও দ্বীনি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এলাকার সর্বস্তরের সুধী সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা আঞ্জুমানে গাউসিয়ার এ মহতী উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন।